
সংসদে স্পিকারের চেয়ারে ধর্মীয় রীতিতে সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত
জাতীয় সংসদের সদস্যরা এখন থেকে নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ার বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানাবেন। আজ ১৮ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, জাতীয় সংসদের বৈঠকের শুরুতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
মূল ঘটনা ও প্রেক্ষাপট:
- বিতর্কের সূত্রপাত: গত ১৬ জুন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান সংসদ কক্ষে মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মান প্রদর্শনের প্রচলিত রীতির বিরুদ্ধে আপত্তি জানান। তিনি বলেন, আগে কার্যপ্রণালি বিধিতে এটি ছিল, কিন্তু ২০০৬ সালে সংশোধনের মাধ্যমে এটি বাদ দেওয়া হয়েছে।
- অন্যান্য দাবি: পরে ১৭ জুন বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকও বিষয়টিতে সুরাহা করার জন্য স্পিকারকে অনুরোধ করেন।
- স্পিকারের পরীক্ষা ও সিদ্ধান্ত: স্পিকার বিষয়টি পরীক্ষা করে আজ তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানান।
কার্যপ্রণালি বিধির নিয়ম:
জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২৬৭ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী—
“সংসদের বৈঠক চলাকালে কোনো সদস্য সংসদে প্রবেশ করার বা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করার সময় এবং তিনি আসন গ্রহণ বা ত্যাগ করার সময়ে সভাপতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবেন।”
২০০৬ সালের সংশোধনী:
স্পিকার জানান যে, ২০০৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর অষ্টম সংসদে কার্যপ্রণালি বিধি সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২৬ সেপ্টেম্বর একটি সংশোধনী গৃহীত হয়। ওই সংশোধনীতে বিধি থেকে ‘ঝুঁকিয়া’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়েছিল।
যেহেতু আইনত ‘ঝুঁকে’ সম্মান দেখানোর বাধ্যবাধকতা নেই, তাই স্পিকার সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা যার যার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী স্পিকারের চেয়ারের প্রতি বা সভাপতির প্রতি সম্মান জানাবেন।”







