আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬
ভারতের উত্তরপ্রদেশে ঘটেছে এক চরম অমানবিক ও শিউরে ওঠার মতো ঘটনা। মায়ের পাশে ঘুমিয়ে থাকা মাত্র ৯ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ১২ বছর বয়সী এক কিশোরের বিরুদ্ধে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরকে এরই মধ্যে আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ।
যেভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক ঘটনা
গত ১৯ জুন রাতে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুর এলাকায় এই নারকীয় ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়:
- রাতে শিশুটিকে নিজের পাশেই নিয়ে ঘুমিয়েছিলেন মা।
- রাত ২টার দিকে হঠাৎ তিনি খেয়াল করেন, মেয়ে বিছানায় নেই। আতঙ্কিত হয়ে রাতেই আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করে পরিবার।
- পরদিন শনিবার (২০ জুন) সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে একটি মাঠের মধ্যে থাকা টিনের চালাঘর থেকে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
- দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা শিশুটির ওপর হওয়া ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশের তদন্ত ও অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি
ঘটনার তদন্তে নেমে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে ১২ বছর বয়সী ওই কিশোরের ওপর সন্দেহ হয় পুলিশের। জানা যায়, সে মাত্র তিন দিন আগেই চণ্ডীগড় থেকে গোরক্ষপুরের ওই বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল।
জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার কথাবার্তায় অসংলগ্নতা পাওয়ায় তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। পরবর্তী সময়ে পুলিশের জেরার মুখে ওই কিশোর নিজের নারকীয় অপরাধ স্বীকার করে নেয়।
পুলিশের কাছে সে জানায়, শুক্রবার রাতে সে মদ্যপান করেছিল এবং নিজের মোবাইলে পর্নোগ্রাফি দেখেছিল। এরপর গভীর রাতে গিয়ে ঘুমন্ত শিশুটিকে তুলে নিয়ে যায়। পুলিশ তার মোবাইল ফোনটি বাজেয়াপ্ত করেছে এবং সেখানে ৫০টিরও বেশি আপত্তিকর ভিডিও পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি
গোরক্ষপুরের পুলিশ সুপার নিমেশ পাটিল জানিয়েছেন, নির্যাতিত ৯ মাস বয়সী ওই শিশুটি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
(সূত্র: আনন্দবাজার ও আরটিভি)









