যুক্তরাষ্ট্রে বসে ওষুধ উদ্ভাবনে কাজের ফল এখন বাংলাদেশে পরীক্ষার পথে। উদ্ভাবিত একটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ বর্তমানে আইসিডিডিআরবির তত্ত্বাবধানে দ্বিতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে রয়েছে—এটাই এই গবেষণার সবচেয়ে বড় ব্যবহারিক অগ্রগতি। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও এটি আশা জাগানো বার্তা, কারণ গবেষণার ধারাটা সরাসরি দেশের চিকিৎসা-ব্যবস্থায় যুক্ত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণা, বাস্তব ট্রায়াল বাংলাদেশে

বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. ইমরুল শাহরিয়ার যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ উদ্ভাবন নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর নেতৃত্বে ও তাঁর দলের উদ্ভাবিত একটি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ এখন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের দ্বিতীয় ধাপে আছে। পুরো প্রক্রিয়াটি হচ্ছে ট্রান্সলেশনাল রিসার্চের অংশ—ল্যাবের আবিষ্কারকে ধাপে ধাপে মানুষের চিকিৎসায় আনার চেষ্টা।
ইমরুলের লক্ষ্য ছিল আরও কার্যকর ওষুধ
ইমরুলের পিএইচডি গবেষণার বিষয় ছিল অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ আবিষ্কার। ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লুর জন্য বাজারে কিছু অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ থাকলেও সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে সন্তোষজনক অবস্থান নেই। গবেষণার লক্ষ্য ছিল—বিদ্যমান ওষুধের তুলনায় আরও কার্যকর সম্ভাবনা তৈরি করা।
গবেষণা ল্যাব থেকে ট্রায়ালে
এই উদ্যোগে প্রথমে প্রাক্-ক্লিনিক্যাল ধাপগুলো এগিয়েছে। এরপর মানুষের শরীরে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাইয়ের পর্যায়ে পৌঁছায়। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালকে কেন্দ্র করে অনেকের মধ্যে ‘গিনিপিগ’ বানানোর মতো ভুল ধারণা তৈরি হয়। তবে গবেষণার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক নৈতিক নীতিমালা মেনে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও গবেষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে স্বেচ্ছাসেবী ও রোগীদের অংশগ্রহণে এসব গবেষণা পরিচালিত হয়। উদ্দেশ্য—নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করা।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, তারপর বাস্তব প্রয়োগ
উৎস অনুযায়ী, ইমরুলদের গবেষণার ফল প্রকাশিত হয় বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ একটি সাময়িকীতে। প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আগ্রহ তৈরি হয় এবং তাঁকে সাক্ষাৎকারের জন্য আমন্ত্রণও জানানো হয়। সেখানে তাঁর গবেষণার সম্ভাব্য কার্যকারিতা প্রসঙ্গেও কথা এসেছে—যদিও তখন পর্যন্ত এটি প্রাণীর ওপর পরীক্ষা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। এখন সেই কাজই ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মাধ্যমে মানুষের চিকিৎসায় এগোচ্ছে।
প্রবাসী পাঠকদের জন্য এটি একদিকে যেমন গর্বের, তেমনি বাস্তব উপকারের ইঙ্গিতও। কারণ বাংলাদেশে ট্রায়াল চললে চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি দেশের রোগীদের দোরগোড়ায় দ্রুত পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়। অন্যদিকে, গবেষণায় টেকসই অগ্রগতি হলে ভবিষ্যতে নতুন চিকিৎসার পথও খুলতে পারে।
প্রবাসী দৃষ্টিতে কেন গুরুত্বপূর্ণ?
- বাংলাদেশে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হওয়ায় গবেষণার ফল দেশে প্রয়োগের সম্ভাবনা বাড়ে।
- প্রাক্-ক্লিনিক্যাল ধাপ পেরিয়ে মানুষের পর্যায়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা-কার্যকারিতা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হয়।
- দেশের গবেষণা সক্ষমতা আন্তর্জাতিক মানের কাজে দৃশ্যমান হচ্ছে।
দ্রুত প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: অ্যান্টিভাইরাল গবেষণার বর্তমান ধাপ কোনটি?
উত্তর: উদ্ভাবিত ওষুধটি বাংলাদেশে আইসিডিডিআরবির তত্ত্বাবধানে দ্বিতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে রয়েছে।
প্রশ্ন: ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল মানে কী?
উত্তর: গবেষণাগারের আবিষ্কারকে মানুষের শরীরে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় নেওয়া।
প্রশ্ন: কেন মানুষ ‘গিনিপিগ’ ধারণা করে?
উত্তর: ভুল ধারণা রয়েছে; বাস্তবতা হলো আন্তর্জাতিক নৈতিক নীতিমালা মেনে অভিজ্ঞ তত্ত্বাবধানে স্বেচ্ছাসেবী ও রোগীদের অংশগ্রহণে ট্রায়াল হয়।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









