Home / অর্থনীতি ও বাণিজ্য / বাজেট / ভোক্তাদের জন্য সুখবর: কমতে পারে কম্পিউটার ও মোবাইলের বাজারদর

ভোক্তাদের জন্য সুখবর: কমতে পারে কম্পিউটার ও মোবাইলের বাজারদর

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স খাতকে উৎসাহ দিতে একাধিক কর-সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশীয়ভাবে উৎপাদিত কম্পিউটার, ল্যাপটপ, স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাজেট সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশে তৈরি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, মনিটর এবং মোবাইল ফোনের জন্য বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধার মেয়াদ আরও কয়েক বছর বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে কম্পিউটার যন্ত্রাংশ, প্রিন্টার, মনিটর ও ফ্ল্যাশ মেমোরি তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামালের ওপর অগ্রিম কর (এটি) কমানোর প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে।

এছাড়াও মোবাইল ফোন উৎপাদন শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে উৎপাদনে ব্যবহৃত ২২ ধরনের কাঁচামাল আমদানির ওপর বিদ্যমান করহার কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশীয় প্রযুক্তিপণ্যের উৎপাদন খরচ কমবে, বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামে পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে স্থানীয় শিল্পের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পাশাপাশি এবারের বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ইলেকট্রনিক্স ও বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদন শিল্প। প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশে তৈরি টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার (এসি), ওয়াশিং মেশিনসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি ইলেকট্রনিক পণ্যের ওপর ভ্যাটের হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭.৫ শতাংশ করা হতে পারে।

এছাড়া এসব পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক ও কর-সুবিধার মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে, স্থানীয় শিল্প আরও শক্তিশালী হবে এবং বাজারে পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।

বর্তমানে দেশে অন্তত ২২টি বড় প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রনিক ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। এই শিল্পে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে সরকার খাতটিকে রফতানিমুখী শিল্পে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, প্রস্তাবিত কর ও ভ্যাট সুবিধা কার্যকর হলে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য প্রযুক্তিপণ্যের উৎপাদন ব্যয় কমবে। এর ফলে একদিকে যেমন ভোক্তারা কম দামে পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে দেশীয় উৎপাদন ও বিনিয়োগও বাড়বে।

উল্লেখ্য, আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে জানা গেছে।

Social Icons