লিওনেল মেসির হাতে থাকা বাদামি রঙের বিশেষ পাত্রটি অনেকেরই নজর কেড়েছিল ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর। সেই পানীয়টির নাম ‘ইয়ারবা মাতে’ (Yerba Mate), যা আর্জেন্টিনার ‘জাতীয় পানীয়’ হিসেবে পরিচিত। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে অফিস—আর্জেন্টিনার মানুষের প্রতিদিনের সঙ্গী এই পানীয়।
কী এই মাতে?
ইয়ারবা মাতে গাছ থেকে সংগৃহীত শুকনা পাতা থেকে এই পানীয় তৈরি হয়।
- পাত্র: পাতাগুলো একটি বিশেষ পাত্রে রাখা হয়, যা সাধারণত ক্যালাবাজা (লাউয়ের খোল), কাঠ, ধাতু বা চামড়ায় মোড়ানো কাচ দিয়ে তৈরি হয়।
- প্রস্তুতি: পাত্রে শুকনা পাতা নিয়ে প্রায় ৭৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার গরম পানি মেশানো হয়।
- পান পদ্ধতি: এরপর বোম্বিয়া (এক ধরনের ধাতব স্ট্র) দিয়ে তেতো স্বাদযুক্ত এই পানীয় চুমুক দিয়ে পান করা হয়। অনেকে এতে চিনি, মধু, লেবু বা কমলার খোসাও মিশিয়ে থাকেন।
বন্ধুত্বের প্রতীক ও সামাজিক রীতি
দক্ষিণ আমেরিকার আদিবাসী গুয়ারানিদের থেকে মাতে পান করার ঐতিহ্য এসেছে। তারা মনে করত, একসঙ্গে মাতে পান করলে আত্মিক বন্ধন দৃঢ় হয়। বর্তমানে ‘রোন্দা দে মাতে’ নামের একটি সামাজিক রীতি অনুযায়ী, একটি পাত্র থেকেই কয়েকজন ব্যক্তি পালা করে মাতে পান করেন, যার কিছু নির্দিষ্ট নিয়মকানুনও রয়েছে।
মাতের স্বাস্থ্যগুণ
শুধু ঐতিহ্যের প্রতীক নয়, মাতে পুষ্টিগুণেও ভরপুর:
- ক্যাফেইন ও শক্তি: এতে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ক্যাফেইন রয়েছে, যা ক্লান্তি কমিয়ে মনোযোগ বাড়াতে এবং শারীরিক কর্মক্ষমতা উন্নত করতে সাহায্য করে।
- ওজন ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: গবেষণায় দেখা গেছে, মাতে রক্তে শর্করার মাত্রা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং শরীরের বাড়তি চর্বি কমাতে ভূমিকা রাখে।
- সংক্রমণ প্রতিরোধ: এর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী ও ছত্রাকজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়ক।
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরেও আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা নিজেদের সাথে শত শত কিলোগ্রাম মাতের কাঁচামাল নিয়ে যান, যা এই পানীয়টির প্রতি তাদের গভীর ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।
সূত্র: প্রথম আলো, ২২ জুন ২০২৬








