GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আইন ও অপরাধ / শিক্ষকসহ ৪ খুনের ঘটনায় জবানবন্দিতে উঠে এলো ভয়ংকর তথ্য

শিক্ষকসহ ৪ খুনের ঘটনায় জবানবন্দিতে উঠে এলো ভয়ংকর তথ্য

রংপুরে শিক্ষকসহ ৪ খুনের ভয়ংকর রাতের বর্ণনা

রংপুরে শিক্ষকসহ একই পরিবারের ৪ খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে ভয়ংকর রাতের বিস্তারিত ঘটনা।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

পুলিশ জানায়, ছাদে ইয়াবা সেবন করতে দেখে ফেলেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী। এ সময় তিনি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে ধমক দেন।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ভয় থেকেই তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় দুই আসামি।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ প্রথমে একটি বাড়িতে ইয়াবা সেবন করেন। পরে তারা আরও ইয়াবা নিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে যান।

ভোরের দিকে গণপতি ছাদে গিয়ে তাদের ইয়াবা সেবন করতে দেখেন। এরপর তিনি চিৎকার ও ধমক দেন।

এ সময় দুই আসামি তাকে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে বলে জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।

ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে গণপতির স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে আগামী ছাদে আসেন। এরপর তাদেরও হত্যা করা হয়।

পরে ঘুম থেকে ওঠে গণপতির ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়ম। সে সিদ্ধার্থকে দেখে প্রশ্ন করে, ‘দাদা তুমি এখানে কেন?’

এরপর তাকেও হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

চারজনকে হত্যার পর দুই আসামি গোসল করে। পরে তারা আবার ইয়াবা সেবন করে। খেজুর ও শশাও খায়।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডকে অন্যদিকে নেওয়ার চেষ্টা করে তারা। এজন্য বাড়ির জিনিসপত্র এলোমেলো করা হয়।

ঘর থেকে স্বর্ণের গহনা ও ১৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। পরে সিসিটিভি থাকার সন্দেহে বৈদ্যুতিক লাইনও বিচ্ছিন্ন করা হয়।

এরপর ছাদ টপকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় দুই আসামি।

পুলিশ জানায়, লাশ উদ্ধারের পর বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়। পরে সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মুগ্ধ দাস পালিয়ে গিয়ে একটি শ্মশানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে। সেখানে কেয়ারটেকার বিদ্যুৎ দাসের কাছে সে হত্যার কথা বলে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরে পুলিশ সেখানে গিয়ে মুগ্ধকে গ্রেপ্তার করে।

দুই আসামি পরস্পরের মামাতো-ফুফাতো ভাই। তাদের মধ্যে সিদ্ধার্থ একটি স্বর্ণের দোকানে এবং মুগ্ধ একটি দোকানে কাজ করতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, গত এক মাস ধরে সিদ্ধার্থ নিয়মিত বৃহস্পতিবার রাতে ইয়াবা সেবন করতেন।

এদিকে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

পুলিশ কমিশনার জানান, ফরেনসিক পরীক্ষা ও ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। আসামিদের ডোপ টেস্টও করা হবে।

এ ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, দুই আসামির বক্তব্যের সঙ্গে সাক্ষীদের জবানবন্দির মিল পাওয়া গেছে।

এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রংপুরে বিচার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি চলছে। মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ ও শোক মিছিল করেছেন স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষার্থীরা।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত আরও এগিয়ে নিতে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়েছে। দ্রুত চার্জশিট দেওয়ার লক্ষ্যেও কাজ চলছে।

Tagged:

Social Icons