GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আইন ও অপরাধ / আইনশৃঙ্খলা / কিস্তির টাকা আদায়ে গ্রাহকের গরু নিয়ে নেওয়া অভিযোগ

কিস্তির টাকা আদায়ে গ্রাহকের গরু নিয়ে নেওয়া অভিযোগ

ঠাকুরগাঁওয়ে কিস্তি আদায় নিয়ে অভিযোগ, এনজিও অফিস ও গবাদিপশু প্রসঙ্গ

ঠাকুরগাঁওয়ে কিস্তির টাকা আদায়কে ঘিরে এক গ্রাহকের বাড়ি থেকে গরু নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইএসডিওর কর্মীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত কিস্তি দেওয়ার পরও জোর করে পশু নিয়ে যাওয়া হয়েছে, এতে ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

কিস্তি বকেয়া ছিল না—তবু চাপ

ঠাকুরগাঁওয়ে কিস্তি আদায় নিয়ে অভিযোগ, এনজিও অফিস ও গবাদিপশু প্রসঙ্গ

ঠাকুরগাঁও পৌরশহরের রোড এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী সুমন চন্দ্র রায় ইএসডিওর শান্তিনগর শাখা থেকে মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির আওতায় ঋণ নেন। ঋণ নেওয়ার পর থেকে তিনি নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করে আসছিলেন। কোনো কিস্তি বকেয়া ছিল না বলে জানান তিনি।

৩০ জুলাই বাড়িতে গিয়ে একসঙ্গে টাকা চাই

গত ৩০ জুলাই রাতে বা নির্দিষ্ট দিনটিতে ইএসডিওর কয়েকজন মাঠকর্মী সুমনের বাড়িতে যান। তাদের দাবি ছিল, একসঙ্গে সব টাকা পরিশোধ করতে হবে। সুমন তাৎক্ষণিকভাবে টাকা দিতে না পারায় অভিযোগ উঠেছে, এরপর কর্মীরা তার গরু নিয়ে যান।

আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির অভিযোগ

ভুক্তভোগী সুমন চন্দ্র রায় বলেন, তিনি নিয়ম অনুযায়ী কিস্তি দেওয়ার পাশাপাশি আরও সময় পাবেন। তবু বাড়ি থেকে গরু নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি জানান, তার কাছে এনজিওর কাছে চেক রয়েছে এবং এতে তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ছয় দিনেও গরু অফিসে—সমাধান চলছে

ঘটনার ছয় দিন পেরিয়েও গরুটি ইএসডিওর শান্তিনগর শাখার মাঠে রাখা রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেও মাঠকর্মী ও ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি—এমনটাই বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। শান্তিনগর শাখার এক কর্মচারী বলেন, ওই গ্রাহক অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছিলেন, তাই গরু অফিসে এনে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।

কিস্তি আদায়ে পশু জব্দ গ্রহণযোগ্য কি না

স্থানীয়রা বলছেন, ঋণ আদায়ের নামে গবাদিপশু জব্দ করার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মুদি দোকানদার ছানোয়ার হোসেন বলেন, সুমন পালিয়ে যাচ্ছেন না, কিস্তিও বকেয়া ছিল না। তবু টানাহেঁচড়া ও জোরজবরদস্তি করে গরু নিয়ে নেওয়া হয়েছে—যা উচিত হয়নি।

এদিকে বেসরকারি সংস্থা ইএসডিওর এরিয়া ম্যানেজার জানান, ঘটনার বিষয়টি দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর পরিষ্কার হবে এবং সমাধানের চেষ্টা চলছে।

প্রবাসী পাঠকের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

মাইক্রোফাইন্যান্সসহ বিভিন্ন ঋণ কর্মসূচিতে কিস্তি আদায় নিয়ে এমন অভিযোগ প্রবাসী পরিবারগুলোকেও ভাবাচ্ছে। কারণ, কিস্তি মিস হলে চাপ, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা—সবকিছুই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। ঋণ কর্মসূচির ক্ষেত্রে এমন ঘটনাগুলো স্বচ্ছতা ও সহমর্মিতার প্রয়োজনীয়তাই সামনে আনছে।

প্রশ্ন-উত্তর

কিস্তি বকেয়া ছিল কি না?
ভুক্তভোগী সুমন চন্দ্র রায় জানিয়েছেন, তার কোনো কিস্তি বকেয়া ছিল না।

গরু কোথায় নেওয়া হয়েছে?
অভিযোগ অনুযায়ী গরুটি ইএসডিওর শান্তিনগর শাখার মাঠে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে সংস্থার অবস্থান কী?
সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons