বান্দরবানের মায়ানমার সীমান্তঘেঁষা আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নে পাহাড়ের বুক চিরে তৈরি হওয়া প্রশস্ত সড়কের কারণে যোগাযোগে অভূতপূর্ব পরিবর্তন এলেও বিদ্যুৎ, চিকিৎসা, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মোবাইল নেটওয়ার্কের মতো মৌলিক নাগরিক সুবিধার অভাবে সেখানকার স্থানীয় ১৭ হাজার অধিবাসীর জীবনযাত্রার মানের বিশেষ কোনো উন্নয়ন ঘটেনি।
ম্রো, ত্রিপুরা ও খুমিসহ পাহাড়ি বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কুরুকপাতা বাজার ও পৌহমুহুরী পর্যন্ত সড়ক উন্নত হলেও প্রত্যন্ত পাড়াগুলোতে সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গেই নেমে আসে ঘুটঘুট অন্ধকার, যেখানে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ না পৌঁছানোয় সোলার বাতি ও কেরোসিনই ভরসা।
ইউনিয়নটিতে কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় চরম বিপাকে পড়েন অসুস্থ রোগীরা; সাধারণ ও জরুরি চিকিৎসার জন্য ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরের উপজেলা সদরে মাতামুহুরী নদীপথ বা পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে যেতে হয় তাদের, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।
একইসঙ্গে মাধ্যমিক বিদ্যালয় না থাকায় পাহাড়ি ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা না থাকায় নাগরিক সুবিধা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দিনযাপন করতে হচ্ছে এই সীমান্তবাসীকে।
এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব কোনো ভবন না থাকায় বাধ্য হয়ে উপজেলা সদরের একটি ভাড়া করা কক্ষে নাগরিক সেবা প্রদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন কুরুকপাতা ইউপি চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো।
কুরুকপাতার কৃষিনির্ভর জুমচাষিরা তাদের উৎপাদিত কলা, মিষ্টি কুমড়াসহ নানা কৃষিপণ্য সঠিক সময়ে ও সুলভ পরিবহন খরচে বাজারে পৌঁছাতে না পেরে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে চরম লোকসানের মুখোমুখি হচ্ছেন।
আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম জানান, এলাকাটি রিজার্ভ ফরেস্ট হওয়ায় ইউপি ভবন নির্মাণে বন বিভাগের কিছু আপত্তি রয়েছে, যা নিরসনে দ্রুত চিঠি পাঠানো হচ্ছে এবং সেখানে দ্রুত মোবাইল নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
