ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়েছে। আগামী ৭ ডিসেম্বর প্রতিবেদন জমার নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। এ নিয়ে মামলাটিতে সম্পূরক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২১ বারের মতো সময় পেলেন তদন্ত কর্মকর্তা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।
এ কারণে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত নতুন করে ৭ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেন।
ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রোকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছিল ডিবি
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৬ জানুয়ারি তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
তবে ওই চার্জশিটের বিষয়ে আপত্তি জানান মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। গত ১৫ জানুয়ারি তিনি আদালতে নারাজি আবেদন জমা দেন।
এরপর আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দেন। সেই থেকে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য একাধিকবার সময় নেওয়া হয়েছে।
যেভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন ওসমান হাদি
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে এর মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন শরিফ ওসমান হাদি।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে হাদির মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর জখম হয়।
প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক সপ্তাহ পর, ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।









