Home / অর্থনীতি ও বাণিজ্য / অর্থনীতি / স্বর্ণের ভরিতে ভ্যাট ৭৮ শতাংশ কমানোর ঘোষণা

স্বর্ণের ভরিতে ভ্যাট ৭৮ শতাংশ কমানোর ঘোষণা

দেশে স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার কেনাবেচায় বর্তমানে মোট বিক্রয়মূল্যের ওপর ৫ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট দিতে হয়। ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই পদ্ধতি পরিবর্তন করে নির্ধারিত অঙ্কের ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রতি ভরি সোনার ওপর ২ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করা হতে পারে। একই সঙ্গে স্বর্ণ ব্যবসায় খাতে উৎসে করের হারও কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের এক ভরির দাম প্রায় ২ লাখ ২৯ হাজার টাকা। এ দামে ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হলে প্রতি ভরিতে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার টাকা কর দিতে হয়। নতুন ব্যবস্থায় প্রতি ভরিতে ভ্যাট নির্ধারণ করা হতে পারে ২ হাজার ৫০০ টাকা, ফলে ভ্যাটের পরিমাণ প্রায় ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ কমবে।

এনবিআরের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে এ খাত থেকে ১৫০ কোটি টাকার কম ভ্যাট আদায় হয়। তবে নির্ধারিত ভ্যাট চালু হলে আদায় বেড়ে প্রায় ৪০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। ব্যবসায়ীদের সমর্থন থাকায় নতুন ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সূত্র জানায়, শুরুতে প্রতি ভরিতে ৫ হাজার টাকা ভ্যাট নির্ধারণের প্রস্তাব থাকলেও স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের দাবির পর তা কমিয়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা করা হচ্ছে।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্বর্ণ বেচাকেনা থেকে ভ্যাট আদায় হয়েছে ১৩৮ কোটি টাকা। দেশে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার জুয়েলারি দোকান রয়েছে। ভ্যাটের পাশাপাশি স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার সরবরাহে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাবও রয়েছে।

বাজেটকে সামনে রেখে প্রাক্-বাজেট আলোচনায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নির্দিষ্ট অঙ্কের ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব দেয় এবং পরে অর্থমন্ত্রীর কাছে চিঠিও পাঠায়। সংগঠনটির মতে, নির্ধারিত ভ্যাট চালু হলে বছরে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আদায় সম্ভব হবে এবং আরও বেশি প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের আওতায় আসবে।

Social Icons