দেশের পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংকের সংকট নিরসনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গপাঁচ ইসলামী ব্যাংকের সংকট সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ, ১ জুলাই থেকে চালু হচ্ছে একক ‘বাংলা কিউআর’
দেশের আর্থিক খাতে সমস্যায় থাকা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের সংকট নিরসনে শিগগিরই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, শুধু এই পাঁচটি ব্যাংকই নয়, আরও কয়েকটি ব্যাংকের কিছু বিষয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারিতে রয়েছে। তবে সব সমস্যার সমাধানে একবারে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দেওয়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে অনুষ্ঠিত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে গভর্নর এসব তথ্য তুলে ধরেন। এ সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংকটাপন্ন ইসলামী ব্যাংকগুলোর বিষয়ে গভর্নর বলেন, এসব ব্যাংকের সমস্যা দীর্ঘদিনের। আগের সরকার গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর তাদের জন্য একটি বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছিল এবং সেই কর্মসূচির আওতায় এখনো অর্থ ছাড় করা হচ্ছে। তিনি জানান, ব্যাংক খাতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরবরাহ করা বাস্তবসম্মত নয়। তাই বিকল্প ও টেকসই উপায়ে সমস্যাগুলোর সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে।
ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ রয়েছে, তা দূর করারও চেষ্টা করেন গভর্নর। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই, যা থেকে বোঝা যায় কোনো ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হবে। তাই গ্রাহকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই এবং তারা নিশ্চিন্তে ব্যাংকে অর্থ রাখতে পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ঋণখেলাপি সংক্রান্ত অভিযোগেরও জবাব দেন মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি দাবি করেন, অতীতে যে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন, সেটি কখনো উৎপাদন বা রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ করেনি এবং কোনো সময় ঋণখেলাপির তালিকায়ও পড়েনি।
গভর্নরের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে ১৫০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করা হয়েছিল। শুরুতে কম সুদে ঋণ সুবিধা পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে সুদের হার বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি কোভিড-১৯ মহামারিসহ বিভিন্ন কারণে প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জনে বিলম্ব হয়। তবে এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি ঋণের কিস্তি পরিশোধ অব্যাহত রেখেছে।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কখনো ঋণখেলাপি হয়নি; বরং ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ পরিশোধ করেছে। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বকেয়া ঋণের যে অভিযোগ প্রচার করা হয়েছে, তার বাস্তব ভিত্তি নেই।
ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনকে আরও সহজ ও সমন্বিত করতে আগামী ১ জুলাই থেকে ‘বাংলা কিউআর’ বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দেন গভর্নর। তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের আলাদা আলাদা কিউআর কোড ব্যবহারের কারণে লেনদেন ব্যবস্থায় একটি বিভাজন তৈরি হয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় একটি একক কিউআর প্ল্যাটফর্মের আওতায় সবাই লেনদেন করতে পারবে।
তিনি জানান, একক কিউআর ব্যবস্থা চালু হলে গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের জন্য ডিজিটাল পেমেন্ট আরও সহজ হবে। একজন ব্যবহারকারী যে কোনো প্রতিষ্ঠানের কিউআর স্ক্যান করেই লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন।
ভারতের উদাহরণ টেনে গভর্নর বলেন, দেশটি একক কিউআর ব্যবস্থার মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বাংলাদেশেও একই ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তার মতে, ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত সবাই ধীরে ধীরে এই ব্যবস্থার আওতায় আসবে এবং নগদ অর্থের ব্যবহার কমে যাবে।
এ ছাড়া ব্যাংক খাতের সংস্কার কার্যক্রম, অর্থ পাচার প্রতিরোধ এবং প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক সেবার সম্প্রসারণে বাংলাদেশ ব্যাংক আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে বলেও জানান গভর্নর।









