জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় বিভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্য গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও এটি সরাসরি ভাবনার বিষয়—কারণ নতুন বাংলাদেশের পথে স্থিতিশীলতা, মানবিক রাষ্ট্র গড়া আর রাজনৈতিক শান্তি সবার নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।
স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনে প্রতিমন্ত্রীর আহ্বান

বুধবার রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি মনে পড়লেই মানুষের মন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। তিনি ফ্যাসিবাদ ও মাফিয়াতন্ত্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া নতুন জাতীয় আকাঙ্ক্ষার কথাও তুলে ধরেন।
আন্দোলনগুলোর ধারাবাহিকতায় শহীদদের রক্ত
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২, ১৯৬৯-এর গণআন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, এরশাদবিরোধী আন্দোলন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের আত্মত্যাগ যেন একই সূত্রে গাঁথা। তাদের রক্তের ধারাবাহিকতায় আজ নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন জাগছে—এমন কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
বেদনার শক্তি দিয়ে কল্যাণমুখী রাষ্ট্র
তিনি আরও বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে যে জনআকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখন সবার। গত ৫৫ বছরের বেদনা ও বঞ্চনাকে শক্তিতে রূপান্তর করে জনগণের জন্য কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র গড়তে হবে।
দল-মত নির্বিশেষে হাত মিলিয়ে পুনর্গঠনের বার্তা
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার কাজ শুরু করেছে। অন্তত একবার দল-মত নির্বিশেষে সবাই যেন বাংলাদেশ পুনর্গঠনের কাজে এগিয়ে যায়। অকারণ বিরোধিতা বা নতুন সংকট তৈরি না করে মানুষের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিতে হবে। নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী।
সব ধর্ম-সম্প্রদায়ের সমান মর্যাদা, সম্প্রীতির ‘রেইনবো’ ভাবনা
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এমন একটি রাষ্ট্র কাঠামো গড়ার লক্ষ্য রয়েছে যেখানে সব জাতিগোষ্ঠী, সব ধর্ম এবং সব সম্প্রদায়ের মানুষ সমান মর্যাদায় ও সম্প্রীতির পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন। তিনি বাংলাদেশকে বৈচিত্র্যের মধ্যেও ঐক্যের দেশ হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।
শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রে
শেষদিকে তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করে ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা গেলে তবেই তাদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে এবং শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে।
প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: অনুষ্ঠানে মূল বার্তা কী ছিল?
উত্তর: শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় বিভেদ নয়, জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ার আহ্বান ছিল।
প্রশ্ন: রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি কী বলা হয়েছে?
উত্তর: দল-মত নির্বিশেষে হাত মিলিয়ে পুনর্গঠনের কাজে এগিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
প্রশ্ন: রাষ্ট্র কাঠামো সম্পর্কে কী লক্ষ্য তুলে ধরা হয়?
উত্তর: সব ধর্ম-সম্প্রদায়ের সমান মর্যাদা ও সম্প্রীতির পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য বলা হয়।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









