জুলাইয়ের চেতনা ধরে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক। জনগণের প্রত্যাশা ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ধারাবাহিকতার সঙ্গে মিলিয়ে বাহিনীর ভেতরের কাজগুলো আরও আধুনিক, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব করার কথাই জোর দিয়ে বলা হয়েছে।
আনসার ও ভিডিপি সদরদপ্তরে বিশেষ কর্মসূচি

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বুধবার (৫ আগস্ট) আনসার ও ভিডিপি সদরদপ্তরে আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। নানা অংশে বাহিনীর সদস্য ও সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।
প্রশাসন, প্রশিক্ষণ ও অপারেশনে পরিবর্তন
আলোচনা সভায় আনসার ডিজি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ধারাবাহিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাহিনীর প্রশাসনিক, প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল কার্যক্রমে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনা হয়েছে। চলমান পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ভবিষ্যতেও ধারাবাহিক কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ডিজিটাল রূপান্তরে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা
মহাপরিচালক জানান, সাম্য, ন্যায্যতা ও প্রাপ্যতার ভিত্তিতে বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম ডিজিটাল রূপান্তরের আওতায় আনা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হিসেবে তিনি বলেন, জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং পেশাগত দক্ষতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জনগণের আস্থা অর্জনই লক্ষ্য
জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা, সততা ও সেবার মানসিকতাকেই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেন আনসার ডিজি। তিনি বলেন, একটি আধুনিক, জনবান্ধব ও সেবামুখী বাহিনী গড়তে সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন। ফলে দেশের মানুষের কাছে সুফল পৌঁছাতে শুরু করেছে বলেও উল্লেখ করেন।
আইনশৃঙ্খলায় দায়িত্ব পালনের ধারাবাহিকতা
প্রসঙ্গত, তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সরকারি দপ্তর ও বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাহিনীর সদস্যরা নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভবিষ্যতেও সেই ধারা অব্যাহত রেখে জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করার কথা বলা হয়।
দিবসজুড়ে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি
দিবসটি উপলক্ষে আনসার ও ভিডিপির সব রেঞ্জ, জেলা, মেট্রোপলিটন, ব্যাটালিয়ন ও উপজেলা কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ, শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রা নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শিত হয়।
প্রবাসী পাঠকের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? জুলাইয়ের চেতনা সামনে রেখে আনসার বাহিনীর প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কাজ আরও স্বচ্ছ ও দক্ষ করার লক্ষ্য—দৈনন্দিন নিরাপত্তা, সেবার মান এবং রাষ্ট্রের সঙ্গে জনগণের বিশ্বাস তৈরিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
সংক্ষেপে কিছু প্রশ্ন
আনসার ডিজি ঠিক কী বিষয়ে জোর দিলেন? প্রশাসনিক, প্রশিক্ষণ ও অপারেশনাল কার্যক্রমে সংস্কার, পাশাপাশি ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতার কথা বলেন।
দিবস উপলক্ষে কী ধরনের কর্মসূচি ছিল? আলোচনা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, দোয়া-মোনাজাত, স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং প্রতিযোগিতাসহ নানা আয়োজনের কথা এসেছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









