সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিতে “কাগুজে চুক্তি” যথেষ্ট নয়—ইরানের সংসদ সদস্য ইব্রাহিম রেজাই এমন বার্তাই দিলেন। শুক্রবার স্বাক্ষরের পরই তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে করা প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সৌদিকে সত্যিকারের সুরক্ষা দেবে কি না।
স্বাক্ষরের পরই ইরানের কঠোর বার্তা

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে শুক্রবার নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর মন্তব্য করেন ইব্রাহিম রেজাই। তিনি বলেন, সৌদি আরবের উচিত এ ধারণা ছেড়ে দেওয়া যে শুধু কাগুজে কোনো সমঝোতা নিরাপত্তা এনে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরতার উদাহরণ টানলেন
রেজাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বছরের পর বছর একতরফাভাবে বাইরের শক্তির ওপর নির্ভর করেও তারা নিরাপত্তা পায়নি। সেই যুক্তি থেকেই তিনি তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে নতুন সহযোগিতাকে “নিরাপত্তার গ্যারান্টি” হিসেবে মেনে নিতে চাননি।
সৌদির পররাষ্ট্রনীতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান
ইরানি আইনপ্রণেতার ভাষায়, সৌদি আরবের উচিত নিজের পররাষ্ট্রনীতি সংস্কার করে আঞ্চলিক স্বার্থকে কেন্দ্র করেই নিরাপত্তা কৌশল সাজানো। তিনি সরাসরি বার্তা দেন— নিরাপত্তার জন্য অন্যের কাছে ভরসা বা নির্ভরশীলতা কমাতে হবে।
চুক্তির লক্ষ্য কী বলছে পাকিস্তান
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের এই প্রতিরক্ষা চুক্তির লক্ষ্য হলো প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা এবং যে কোনো হামলার বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা গড়ে তোলা। একই সঙ্গে বলা হয়, কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিনটির ওপর হামলা হিসেবে ধরা হবে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা
এই চুক্তি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরানের সংসদ সদস্যের প্রতিক্রিয়া সেই কথাই আরও সামনে এনেছে—আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রশ্নে “সহযোগিতা” আর “বাস্তব নিশ্চয়তা” নিয়ে মতপার্থক্য স্পষ্ট।
প্রবাসীদের জন্য কেন জরুরি
মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বদলালে সবচেয়ে আগে প্রভাব পড়ে দৈনন্দিন যাতায়াত, কাজের পরিবেশ এবং কর্মীদের নিরাপত্তা-চিন্তার ওপর। তাই সৌদি আরবকেন্দ্রিক প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত টানাপোড়েন প্রবাসী বাংলাভাষীদের স্বস্তি এবং পরিকল্পনায়ও প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রশ্নোত্তর
ইব্রাহিম রেজাই ঠিক কী বলেছেন? তিনি বলেছেন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে “কাগুজে” নিরাপত্তা চুক্তি সৌদিকে সুরক্ষা দিতে পারবে না।
চুক্তির লক্ষ্য হিসেবে কী বলা হয়েছে? যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং কোনো একটির ওপর হামলাকে তিনটির ওপর হামলা হিসেবে দেখা।
এটা প্রবাসীদের কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে? নিরাপত্তা পরিস্থিতি পাল্টালে কাজের পরিবেশ ও যাতায়াতে অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









