গাজায় গত ৩০০ দিনে অন্তত ৩০০ শিশু নিহত হয়েছে—ইউনিসেফের এমন তথ্য প্রবাসী পরিবারের নিরাপত্তা ভাবনাকে আরও ভারী করে তুলেছে। একই সময়ে আহতের সংখ্যাও বাড়ছে, ফলে শিশুদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়ছে প্রতিদিন।
এদিকে উপত্যকাজুড়ে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ, গুলিবর্ষণ ও নৌবাহিনীর হামলাসহ তীব্র সামরিক অভিযান থামছে না। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানি ও আশ্রয়ের সংকট প্রতিদিনই নতুন করে দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি।
৩০০ দিনে ৩০০ শিশু নিহতের খবর

ইউনিসেফের বরাতে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, গাজায় শিশুদের ওপর হামলা অব্যাহত থাকায় গত ৩০০ দিনে অন্তত ৩০০ শিশু নিহত হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে একজন শিশু নিহত হয়েছে—এমন বাস্তবতা পরিবারগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্ক।
আশ্রয় সংকট, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসেবা
অতিরিক্ত জনাকীর্ণ আশ্রয়কেন্দ্র, নিরাপদ পানির সীমিত সুযোগ এবং স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতিই শিশুদের দুর্ভোগ তীব্র করছে। যুদ্ধের প্রভাব শুধু ক্ষয়ক্ষতিতে থেমে থাকছে না; দৈনন্দিন জীবনও চরম অনিশ্চয়তায় ঠেলে দিচ্ছে।
পশ্চিম তীরে বেদুইনদের ওপর হামলা
গাজার পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরেও হামলা এবং বাস্তুচ্যুতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভাষ্য, ফিলিস্তিনি বেদুইনদের উচ্ছেদের লক্ষ্যেই বসতি স্থাপনকারীদের হামলা জোরদার হয়েছে।
ওসিএইচএ জানিয়েছে, হেবরনের মাসাফের ইয়াত্তা এলাকায় তুবায় বুধবার রাতে বসতি স্থাপনকারীরা কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়েছে। এতে তিনটি পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়, যাদের মধ্যে ১৪ জন শিশু রয়েছে। পাশাপাশি আহতও হয়েছেন—যাদের মধ্যে দুই শিশু। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, পশুখাদ্যসহ অন্যান্য সম্পদ।
সুরক্ষা ও জবাবদিহির আহ্বান
ওসিএইচএ আরও সতর্ক করে বলেছে, বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং চলাচলে বিধিনিষেধ ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি ও জীবিকায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। তাদের দাবি, অধিকৃত ভূখণ্ডজুড়ে ফিলিস্তিনিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং হামলার জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এই ধরনের খবর বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আত্মীয়-স্বজনের নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও সামগ্রিক মানবিক পরিস্থিতির ওপর এর সরাসরি প্রভাব পড়ে। যুদ্ধ দীর্ঘ হলে খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের সংকট আরও ঘনীভূত হয়—যা পরিবারগুলো প্রতিদিনই টের পাচ্ছে।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
ইউনিসেফ কোন বিষয়ে সতর্ক করেছে?
গাজায় শিশু নিহতের সংখ্যা এবং শিশুদের মানবিক দুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরে সতর্ক করা হয়েছে।
পশ্চিম তীরে হামলার লক্ষ্য কারা?
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভাষ্য, ফিলিস্তিনি বেদুইন সম্প্রদায়কে উচ্ছেদের লক্ষ্যেই হামলা হচ্ছে।
বাস্তুহারা শিশুদের কী অবস্থা?
ঘটনাগুলোর কারণে শিশুরা নিরাপত্তার জন্য আত্মীয়-স্বজন বা প্রতিবেশীদের আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









