ডেঙ্গুতে নতুন করে আরও রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও সতর্ক থাকার বার্তা জোরালো হচ্ছে। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী এখন ১২৮১ জন।
নতুন ভর্তি ২৪৯ জন, চিকিৎসাধীন ১২৮১

বার্তায় বলা হয়, এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ২৪৯ জন ভর্তি হয়েছেন। এর ফলে সার্বিকভাবে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৮১।
এ বছর এখন পর্যন্ত মৃত্যু ৫৯ জন
তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে নতুন করে কেউ মারা যাননি। তবে এ বছর এখন পর্যন্ত রোগটিতে মোট মৃত্যু হয়েছে ৫৯ জন। ফলে চিকিৎসার চাপ যেমন অব্যাহত, তেমনই প্রতিরোধ-সচেতনতার গুরুত্বও বাড়ছে।
বিভাগভিত্তিক অবস্থান: ঢাকায় সবচেয়ে বেশি
বর্তমানে সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন—মোট ৫০৪ জন। এরপর বরিশাল ২২৮, খুলনা ১৯৬, চট্টগ্রাম ১০৮, ময়মনসিংহ ৯৬, রাজশাহী ৯৮, রংপুর ৪৬ ও সিলেট বিভাগে পাঁচজন চিকিৎসাধীন।
হাসপাতালে ভর্তি ও ছাড়পত্রের হিসাব
এ পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭ হাজার ৬৫৮ জন। তাদের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৬ হাজার ৩১৮ জন। অর্থাৎ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন অনেকেই—তবু নতুন রোগী যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি নজরদারির দাবি রাখে।
মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ
মারা যাওয়াদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মোট ৫৯ জনের মধ্যে নারী ৩৭ জন এবং পুরুষ ২২ জন। ঢাকা বিভাগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ১৮ জন, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে সাত জন এবং সিটি করপোরেশনের বাইরে একজন মারা গেছেন। এছাড়া খুলনায় ১০, বরিশালে সাত, ময়মনসিংহে ছয়, চট্টগ্রামে পাঁচ, রাজশাহীতে তিন এবং রংপুর ও সিলেটে একজন করে মৃত্যুর তথ্য এসেছে।
প্রবাসীদের জন্য করণীয়
ডেঙ্গু মৌসুমে পরিবার-পরিজনের খোঁজ রাখা এখন খুব জরুরি। ঘরের আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, মশার কামড় কমাতে ব্যবস্থা নেওয়া এবং জ্বরের শুরুতে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া—এসবই সবচেয়ে কাজে দেয়।
কিছু প্রশ্ন—যেগুলো মাথায় রাখতে পারেন
১) নতুন মৃত্যু না হলেও ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমেছে কি?
নতুন মৃত্যু না থাকলেও রোগীর সংখ্যা হাসপাতালে যুক্ত হওয়ায় ঝুঁকি ও নজরদারি দুটোই বজায় আছে।
২) ঢাকায় রোগী বেশি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
অধিক রোগী মানে স্বাস্থ্যসেবার চাপ বেশি—তাই প্রতিরোধ ও দ্রুত চিকিৎসা আরও প্রয়োজন।
৩) কাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে?
জ্বর হলে দেরি না করে পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিন—শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এ সতর্কতা আরও জরুরি।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









