ময়মনসিংহ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক বছরে ১ লাখের বেশি শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার চিত্র উঠে এসেছে। স্কুলে নিয়মিত না আসা, চাকরি খোঁজে ঢাকামুখী হওয়া আর বিকল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলে যাওয়ার প্রবণতা—সব মিলিয়ে ধাক্কা খাচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষার ধারাবাহিকতা।
এক বছরে শিক্ষার্থী কমল ১ লাখের বেশি

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর (২০২৬ সাল) ময়মনসিংহের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী রয়েছে ৪ লাখ ২৫ হাজার ৮২২ জন। এর আগের বছর ছিল ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৫৬৮ জন। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে শিক্ষার্থী কমেছে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৪৬ জন।
প্রাথমিক থেকে ঝরে পড়া বাড়ছে
শিক্ষার্থী কমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঝরে পড়ার হারও আছে। ময়মনসিংহে সরকারি প্রাথমিকে চলতি বছরে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। এই হার বেশি গফরগাঁও উপজেলায়—প্রায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ।
গ্রাম থেকে ঢাকায় কাজ—স্কুল থেকে দূরে শিশু
সদর উপজেলার সিরতা ইউনিয়নের আনন্দিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থী কমার উদাহরণ দেখা যাচ্ছে। আবু রায়হান নামে এক শিক্ষার্থী মে মাস পর্যন্ত ক্লাস করলেও জুন মাসের শুরুর দিক থেকে আর স্কুলে আসছিল না। কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, সে ঢাকায় একটি দরজির দোকানে কাজ নিয়েছে।
তার বাবা দিনমজুরের কাজ করেন। মা জানিয়েছেন, ঢাকায় কাজ শিখতে শিশুটিকে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অভাব আর পড়তে অনীহার কথাও সামনে এসেছে। একইভাবে তারাকান্দা উপজেলার পিঠাসূতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীও কিছুদিন ধরে ক্লাসে নেই—এ ধরনের কয়েকজনকে খুঁজে পাচ্ছেন শিক্ষকরা।
কওমি মাদ্রাসা ও নানা সমস্যায় বদলে যাচ্ছে ভর্তি
বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলায় বোঝা যাচ্ছে, সব ক্ষেত্রে একক কারণ নেই। গ্রামের রাস্তা-ঘাট ও যাতায়াতজনিত নানা সমস্যা, পরিবারের সিদ্ধান্ত, আবার প্রাথমিক বিদ্যালয় ছেড়ে কওমি মাদ্রাসায় ভর্তি—এসবও শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে।
পিঠাসূতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাগজে–কলমে শিক্ষার্থী থাকলেও কয়েকজন নির্দিষ্ট সময়ের পর আর স্কুলে ফিরছে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীও ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নিয়মিত ক্লাস করে পরে আর স্কুলে যায়নি।
হোম ভিজিটের চেষ্টা, তবু সমাধান জটিল
ঝরে পড়া রোধে নিয়মিত ‘হোম ভিজিট’ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা। শিক্ষকরা বলছেন, অনেক সময় অভিভাবকের অসচেতনতা এবং বিকল্প প্রতিষ্ঠানে চলে যাওয়ার কারণে পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলানো যাচ্ছে না। আবার দরিদ্র পরিবারগুলোর চাকরি খোঁজে সন্তানদের সঙ্গে ঢাকায় চলে যাওয়াও জোরালো কারণ হয়ে উঠছে।
কয়েকটি প্রশ্ন
প্রাথমিকে শিক্ষার্থী কমার বড় কারণ কী?
পরিবারের আর্থিক টানাপোড়েন, কাজের খোঁজে ঢাকামুখী হওয়া, যাতায়াত সমস্যা এবং বিকল্প শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি—এসব একসঙ্গে কাজ করছে।
স্কুলগুলো কী করছে?
ঝরে পড়া রোধে শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘হোম ভিজিট’ করা হচ্ছে।
প্রবাসী পরিবারগুলোর জন্য বার্তাটা কী?
শিশুদের স্কুলে নিয়মিত উপস্থিতি ধরে রাখতে আগে থেকে পরিকল্পনা নিলে ঝরে পড়ার ঝুঁকি কমে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: prothomalo.com









