নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) হলের সিট পরিবর্তন ঘিরে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছেন। এতে সাবেক সমন্বয়কও রয়েছেন—ক্যাম্পাসে রাতভর উত্তেজনার পর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
হলজুড়ে রাতভর সংঘর্ষ

সোমবার (১৭ আগস্ট) গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার প্রথম প্রহর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল মালেক উকিল হল ও পকেট গেট এলাকায় দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়।
সিট এক্সচেঞ্জে শুরু, পরে হামলার অভিযোগ
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র অনুযায়ী, রাত আনুমানিক ২টার দিকে আব্দুল মালেক উকিল হলের একটি কক্ষের সিট পরিবর্তন (এক্সচেঞ্জ) নিয়ে সিনিয়র-জুনিয়র কর্মীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর রাত ৩টার দিকে সংঘর্ষের নতুন মোড় নেয়।
আরও একজন আহতের পরিণতি আরও স্পষ্ট হয় পকেট গেট এলাকায় হামলার ঘটনায়। অভিযোগ অনুযায়ী, সিফাতকে মারধর করে হল থেকে বের করে দেওয়ার পর তিনি পকেট গেটের দিকে যান। এরপর সেখানে সামিউল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তার ঠোঁট ফেটে যায় এবং পরে তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আহতদের মধ্যে সাবেক সমন্বয়ক
এই ঘটনায় আহতদের মধ্যে শাখা ছাত্রদলের ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান সিফাত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক জাহিদুল ইসলাম হাসান এবং কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম রয়েছেন। আহত একজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
থামাতে গেলে হেনস্তা, সাংবাদিকও ক্ষতিগ্রস্ত
ঘটনা থামাতে গেলে হলের ভেতরেই মারধরের শিকার হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক জাহিদুল ইসলাম হাসান। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত দুই সাংবাদিকও হেনস্তার শিকার হন।
দুই পক্ষের বক্তব্য
মারধরের শিকার ছাত্রদল নেতা আনিসুর রহমান সিফাত বলেন, সিট নিয়ে তুচ্ছ ঘটনায় বাগ্বিতণ্ডার জেরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। অন্যদিকে, শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হাসান জানান, প্রথমে খাবার খেতে গিয়ে সিট এক্সচেঞ্জকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডা হয়, পরে সমাধান হয়ে সবাই চলে যায়; কিন্তু এরপর পরিকল্পিতভাবে এসে হামলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও হামলার অভিযোগ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ বাড়ছে।
প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
ক্যাম্পাসে সহিংসতা বা হামলা হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হয় এবং পরিবারের আস্থা-নিরাপত্তার উদ্বেগও বাড়ে। প্রবাসী অভিভাবকদের জন্যও এটি সরাসরি চিন্তার বিষয়—কারণ দূর থেকে শিক্ষার্থীদের খোঁজ নেওয়াই হয়ে পড়ে সবচেয়ে জরুরি কাজ।
প্রশ্ন: সংঘর্ষের মূল কারণ কী ছিল?
উত্তর: হলের সিট পরিবর্তন (এক্সচেঞ্জ) নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রশ্ন: কারা আহত হয়েছেন?
উত্তর: শাখা ছাত্রদলের ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক সিফাত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক জাহিদুল ইসলাম হাসান এবং সামিউল ইসলাম—এই তিনজন আহত হন।
প্রশ্ন: আহতদের মধ্যে কারও চিকিৎসা হয়েছে কোথায়?
উত্তর: আহত একজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









