GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / অর্থনীতি ও বাণিজ্য / উত্তরা ফাইন্যান্সে প্রশাসক নিয়োগ কেন্দ্রীয় ব্যাংক

উত্তরা ফাইন্যান্সে প্রশাসক নিয়োগ কেন্দ্রীয় ব্যাংক

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে প্রশাসক নিয়োগ, উত্তরা ফাইন্যান্সের পর্ষদে পরিবর্তন

চার শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগের পর এবার উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস পরিচালনায় প্রশাসক বসিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য মূলত প্রতিষ্ঠানটির ভেতরের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রশাসক নিয়োগ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে প্রশাসক নিয়োগ, উত্তরা ফাইন্যান্সের পর্ষদে পরিবর্তন

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক মো. মোস্তাকুর রহমানকে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পর্ষদে নতুন করে গতি আনার বদলে তদারকি জোরদার করার এই সিদ্ধান্ত এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিদর্শন ও চলমান সংকটের প্রেক্ষাপটে।

২০২২ থেকে অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগ

উত্তরা গ্রুপের বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে ২০২২ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি স্বতন্ত্র পরিচালকদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে আসে—বিশেষ করে গ্রাহকের আমানতের অর্থ প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা না দিয়ে অন্যত্র ব্যবহার, কলমানি থেকে নেওয়া অর্থ নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যক্তিগত কাজে খাটানো, অগ্রিম ও প্রি-পেমেন্টের নামে অর্থ আত্মসাৎ এবং ভুয়া এফডিআরের বিপরীতে ঋণ নেওয়ার মতো অভিযোগ।

এসব ঘটনায় প্রায় তিন হাজার ৪৪০ কোটি টাকার অনিয়ম ও জালিয়াতির তথ্য পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই অভিযোগে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে উত্তরা গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচ পরিচালককে অপসারণ করা হয়।

নতুন সংকট, পদত্যাগের ঢেউ

পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উত্তরা ফাইন্যান্সের পাঁচ সদস্যের পর্ষদ পুনর্গঠন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কিন্তু পর্ষদ গঠনের কয়েক মাসের মধ্যেই ফের সংকট দেখা দেয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত রোববার প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ও এনআরবিসি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মুখতার হোসেন পদত্যাগ করেন। একই দিনে স্বতন্ত্র পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. নিয়ামুল কবির এবং মো. রফিকুল ইসলামও পদত্যাগ করেন। পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওয়ালি উল্লাহও পদ ছাড়েন।

বর্তমানে পর্ষদে রয়েছেন উত্তরা গ্রুপের আইন উপদেষ্টা ও স্বতন্ত্র পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল আজম এবং গ্রুপটির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) মাহবুব আলম।

যে প্রশ্নগুলো জোরালো হচ্ছে

উত্তরা গ্রুপের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ থাকলেও গ্রুপটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কীভাবে পর্ষদে যুক্ত হলেন—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কেউ কেউ বলছেন, পর্ষদ পুনর্গঠনের সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি পরিচালকদের নিয়োগে কোনো অনৈতিক লেনদেন হয়েছিল কি না—সেটিও তদন্তের দাবির মধ্যে রয়েছে।

এদিকে উত্তরা ফাইন্যান্সের এক কর্মকর্তা জানান, গ্রুপের জালিয়াতির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঋণ মওকুফের বিষয়কে ঘিরে পর্ষদে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। ফলে চেয়ারম্যান, পরিচালক এবং এমডিসহ চারজনকে একযোগে পদত্যাগ করতে হয়।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এই খবরে সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো—যে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগ আমানতকারীদের আস্থা ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে তদারকি বাড়লে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি কমার আশা তৈরি হয়।

প্রশ্নোত্তর

প্রশাসক কে নিয়োগ পেয়েছেন?
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক মো. মোস্তাকুর রহমানকে উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টসের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কেন প্রশাসক নিয়োগ এলো?
চার শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগের পর এবং আগে থেকে থাকা অনিয়ম-জালিয়াতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

প্রবাসী আমানতকারীদের জন্য এর প্রভাব কী?
তদারকি জোরদার হলে আমানত ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরতে পারে—যা আস্থা পুনর্গঠনে সহায়ক হতে পারে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons