শর্টকাটে আইনজীবী হওয়ার প্রবণতা কমাতে পেশাগত প্রশিক্ষণ জোরদার করার কথা বলেছেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলছেন, প্রশিক্ষণের ঘাটতি থাকায় দক্ষ আইনজীবী গড়ে উঠছে না—এটাই এখন আইন পেশার বড় চ্যালেঞ্জ।
শর্টকাটে আইন পেশা, প্রশিক্ষণ ঘাটতিই মূল সমস্যা

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবনে আইনজীবীদের জন্য একটি বেসরকারি ব্যাংকের উপশাখা উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে অনেকেই শর্টকাটে আইনজীবী হচ্ছেন। কিন্তু পেশাগত প্রশিক্ষণের অভাবে সেই পথ দক্ষ আইনজীবীতে রূপ নিচ্ছে না।
সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী থাকলেও চূড়ান্ত শুনানিতে ঘাটতি
আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীর সংখ্যা থাকলেও চূড়ান্ত শুনানি আয়োজনের মতো পর্যাপ্ত দক্ষ আইনজীবী তৈরি করা যাচ্ছে না। ফলে বিচারপ্রক্রিয়ায় যোগ্যতার ঘাটতি তৈরি হতে পারে বলেই তাঁর উদ্বেগ।
বার কাউন্সিলকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ
আইন পেশাকে অনন্য উচ্চতায় তুলতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বার কাউন্সিলের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণব্যবস্থা আগের বছরগুলোতে যথাযথভাবে করা সম্ভব হয়নি। তাই এখন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—বার কাউন্সিলকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
আইনজীবীদের জন্য প্রশিক্ষণ কাঠামো নেই—এমন অভিযোগ
আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারি চাকরিজীবী ও বিচারকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও আইনজীবীদের পেশাগত প্রশিক্ষণের কাঠামো তেমন নেই। তিনি ব্যাখ্যা করেন, আইনজীবীরা সনদ নিয়ে সিনিয়রের পেছনে ঘুরতে ঘুরতে একসময় নিজেরাও সিনিয়র হয়ে যান; কিন্তু এর মাঝে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকে না।
প্রশিক্ষণে অর্থ বরাদ্দ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নামে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথাও জানান আইনমন্ত্রী। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে প্রতিবছর এই বরাদ্দ বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা বলেন তিনি।
প্রবাসী পাঠকের জন্য কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
আইন পেশায় দক্ষতা বাড়লে শুধু আদালতের কাজ নয়—প্রবাসী পরিবারের বিভিন্ন আইনি প্রয়োজনেও মানসম্পন্ন সহায়তা সহজ হয়। সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ আইনজীবী তৈরির আলোচনা তাই বাস্তব জীবন ও নিরাপত্তার প্রশ্নেও প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রশ্ন— আইনমন্ত্রী সবচেয়ে যে বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন?
উত্তর— শর্টকাটে আইনজীবী হওয়া ঠেকাতে পেশাগত প্রশিক্ষণ জোরদার করার ওপর।
প্রশ্ন— বার কাউন্সিল নিয়ে তাঁর বক্তব্য কী ছিল?
উত্তর— বার কাউন্সিলকে শক্তিশালী করে প্রশিক্ষণব্যবস্থা কার্যকর করার উদ্যোগের কথা বলেছেন।
প্রশ্ন— প্রশিক্ষণের জন্য অর্থ বরাদ্দ হবে কি?
উত্তর— বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নামে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









