GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / অর্থনীতি ও বাণিজ্য / ইসলামি ব্যাংক আমানতে বড় পতন

ইসলামি ব্যাংক আমানতে বড় পতন

বাংলাদেশের ইসলামি ব্যাংক ব্যবস্থায় আমানত ও রেমিট্যান্সের পরিবর্তন দেখানো গ্রাফ

ইসলামি ব্যাংক আমানতে বড় পতন—জুন শেষে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানত এক মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রবাসী আয়ের প্রবাহও কমায় পরিবারগুলোর দৈনন্দিন অর্থের ওপর চাপ পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এক মাসে আমানত কমেছে ১৭ হাজার কোটি টাকা

বাংলাদেশের ইসলামি ব্যাংক ব্যবস্থায় আমানত ও রেমিট্যান্সের পরিবর্তন দেখানো গ্রাফ

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকের আমানতের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা। মে শেষে ছিল ৪ লাখ ৬ হাজার ১৪১ কোটি টাকা। ফলে এক মাসে আমানত কমেছে ১৭ হাজার ২৬২ কোটি টাকা।

শুধু মাসিক নয়, এক বছরের ব্যবধানেও এই কমার ধারা দেখা গেছে। ২০২৫ সালের জুন শেষে আমানত ছিল ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৭৯ কোটি টাকা; চলতি বছরের জুন শেষে তা নেমে এসেছে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে কমেছে ৪ হাজার ২০১ কোটি টাকা।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়েও আমানত কম, বিনিয়োগ বেড়েছে

এই একই সময়ে ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থার এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানত কমেছে ২ হাজার ৮৮ কোটি টাকা। তবে আমানত কমলেও এ খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে ১২ হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ টাকার প্রবাহে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে—জমা কমছে, আবার বিনিয়োগে গতি থাকছে।

ব্যাংকিং ব্যবস্থায় মোট চিত্রে ইসলামি অংশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, জুন শেষে দেশের পুরো ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। মে শেষে যা ছিল ৪ লাখ ৮০ হাজার ৪১ কোটি টাকা। ফলে এক মাসে এ ব্যবস্থায় আমানত কমেছে ১২ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা।

বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতের মোট আমানতের মধ্যে ইসলামি ব্যাংকগুলোর দখল ২০.৮৭ শতাংশ। মোট ব্যাংকিং খাতে আমানতের স্থিতি ছিল ২২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রচলিত ব্যাংকগুলোর অংশ ৭৯.১৩ শতাংশ।

প্রবাসী আয় কমায় প্রভাব পড়ছে পরিবারে

আমানত কমার পাশাপাশি জুনে ইসলামি ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রবাসী আয়ও কমেছে। এ মাসে দেশে এসেছে ৪৪ কোটি ৮ লাখ ডলার, যা মে মাসে ছিল প্রায় ৬৫ কোটি ডলার। ফলে এক মাসে প্রবাসী আয় কমেছে প্রায় ২১ কোটি ডলার।

অন্যদিকে ইসলামি ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে আমদানি বিল পরিশোধ বেড়েছে। জুনে পরিশোধ করা হয়েছে ৯৯ কোটি ডলার, মে মাসে ছিল ৮৯ কোটি ডলার।

আস্থা সংকটে আমানত তোলার চাপ

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে তৈরি হওয়া অস্থিরতার প্রভাব অন্যান্য ইসলামি ব্যাংকের ওপরও পড়েছে। গ্রাহকদের একাংশ আতঙ্কিত হয়ে আমানত তুলে নেওয়ায় পুরো ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তারা মনে করেন, পরিচালনা পর্ষদে বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়োগের মতো সিদ্ধান্ত গ্রাহকদের আস্থায় আঘাত হানতে পারে।

তাই ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরাতে নিয়োগ ও পরিচালনার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

প্রশ্নোত্তর

ইসলামি ব্যাংকগুলোর আমানত কমার প্রধান ইঙ্গিত কী?
জুন শেষে ১০টি পূর্ণাঙ্গ ইসলামি ব্যাংকে আমানত কমেছে এবং এ ধারা এক বছরে পর্যন্ত টানা হয়েছে।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে কী ঘটেছে?
এখানেও আমানত কমেছে, তবে একই সময়ে বিনিয়োগ বেড়েছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এর প্রভাব কী হতে পারে?
ইসলামি ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় কমায় রেমিট্যান্স-নির্ভর পরিবারগুলোর আর্থিক পরিকল্পনায় চাপ পড়তে পারে।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: jagonews24.com

Social Icons