বাংলা লোকসংগীতের দেহঘড়ি ধরে রেখেছেন আবদুর রহমান বয়াতি। তাঁর ‘মন আমার দেহঘড়ি’—যাঁর সুরে শুধু গ্রামবাংলা নয়, আজকের প্রজন্মও মেতে ওঠে।
ভরাট কণ্ঠে লোকালয় পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চ

লোকসংগীতের ভেতরের দর্শনকে তিনি পরিবেশন করেছেন সহজ ভঙ্গিতে। বাউল, মারফতি, মুর্শিদি ও দেহতত্ত্বের গানকে আপন সুরে সাজিয়ে পৌঁছে দিয়েছেন দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে। সেই কারণেই তাঁর গান শোনার সঙ্গে সঙ্গে যেন এক ধরনের আত্মচেনা তৈরি হয় শ্রোতার মধ্যে।
‘মন আমার দেহঘড়ি’ কেন আজও আলোচনায়
‘মন আমার দেহঘড়ি’ শুধু জনপ্রিয় একটি গান নয়; এটি শোনা-দেখার বাইরে গিয়ে মানুষের অনুভূতিতে বসে যায়। সুরের টান, গানের ভেতরের বার্তা—দুই মিলেই গানটি বর্তমান প্রজন্মের কাছেও সমান আপন।
দেহতত্ত্বের জটিল ভাবনা সহজ করে বলা
দেহতত্ত্বের নানা জটিল দর্শনকে তিনি এমনভাবে তুলে ধরতেন, যাতে সাধারণ মানুষও বুঝতে পারে। মঞ্চে খঞ্জনি বাজিয়ে শরীর দুলিয়ে গান গাইলে শ্রোতারা যেন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পড়ত—পরিবেশনা হয়ে উঠত এক টুকরো উৎসব।
মারফতি-বাউল সুরে বাঙালি সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব
দেশ-বিদেশের বহু মঞ্চে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীতকে তিনি তুলে ধরেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামনে গান গেয়ে বাঙালি সংস্কৃতিকে তিনি নতুন মাত্রায় পৌঁছে দেন। প্রবাসী বাঙালিদের জন্যও এটা বড় আত্মপরিচয়ের বার্তা—সংস্কৃতির এই সুর যেন ঘরে ফেরার টানে বাঁধে।
অমর থাকবেন সুর, গান আর পরিবেশনায়
লোকসংগীতের এই মহান সাধক ২০১৩ সালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। শারীরিকভাবে তিনি না থাকলেও তাঁর গান, সুর ও পরিবেশনা থেকে যাবে বাঙালি সংস্কৃতির ইতিহাসে। ‘মন আমার দেহঘড়ি’সহ তাঁর গাওয়া বহু গান এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
প্রশ্ন-উত্তর
- ‘মন আমার দেহঘড়ি’ কে গেয়েছেন? আবদুর রহমান বয়াতি।
- তিনি কোন ধরনের লোকগান বেশি করেছেন? বাউল, মারফতি, মুর্শিদি ও দেহতত্ত্বভিত্তিক গান।
- আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনি কীভাবে পরিচিত হন? যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে গান গেয়ে বাঙালি সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করেন।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: bondhushava.com









