GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আইন ও অপরাধ / অপরাধী তদন্তকারী হলে ন্যায়বিচার হবে কীভাবে

অপরাধী তদন্তকারী হলে ন্যায়বিচার হবে কীভাবে

মানবাধিকার ও আইনি সংলাপের একটি মঞ্চ, যেখানে বক্তারা ন্যায়বিচার ও তদন্ত নিয়ে আলোচনা করছেন

অপরাধের অভিযোগ যখন তদন্ত করবে অভিযুক্তের ভূমিকায় থাকা কারও হাতেই, তখন ন্যায়বিচার আদৌ কীভাবে নিশ্চিত হবে—এ প্রশ্ন তুলেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

বাহিনীকেই তদন্তের দায়িত্ব দিলে ন্যায়বিচার দুর্বল

মানবাধিকার ও আইনি সংলাপের একটি মঞ্চ, যেখানে বক্তারা ন্যায়বিচার ও তদন্ত নিয়ে আলোচনা করছেন

কারওয়ান বাজারের বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত সংলাপে তাজুল ইসলাম বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠলে সেই তদন্ত দায়িত্ব যদি সংশ্লিষ্ট বাহিনীর ওপর দেওয়া হয়, তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে না। তার বক্তব্য, এতে ন্যায়বিচারের মৌলিক কাঠামোই নড়ে যায়।

প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়া প্রসঙ্গ

প্রস্তাবিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুমসংক্রান্ত আইন—দুই খসড়ার প্রসঙ্গ তুলে তাজুল ইসলাম বলেন, তদন্তের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট বাহিনীর হাতে দেওয়ার ফলে ভুক্তভোগী ও বাহিনীর কর্মকর্তা—দুই পক্ষই ঝুঁকিতে পড়ছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেউ নিজের মামলার বিচারক হতে পারেন না।

ভুক্তভোগী পরিবারে ‘ভয়’ বাড়ার আশঙ্কা

তাজুল ইসলামের মতে, গুমসংক্রান্ত আইনটিতে এমন ব্যবস্থা থাকায় ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে কারাদণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে ‘ট্রমার’ মধ্যে থাকা পরিবারগুলো অভিযোগ করা থেকে আরও বেশি ভয় পেতে পারেন—এই আশঙ্কাই তিনি তুলে ধরেন।

আলোচনা-সংশোধনের পরও ‘ল্যাপস’ হয়ে নতুনভাবে দায়িত্ব বদল

তিনি বলেন, গুমসংক্রান্ত আইন তৈরির সময় গুম কমিশন, ভুক্তভোগী, তাঁদের পরিবার ও নাগরিক সমাজের মতামত নেওয়ার প্রসঙ্গ ছিল। বহু আলোচনা ও পর্যালোচনার পর আইন প্রস্তুত হলেও পরে সেটি ‘ল্যাপস’ করিয়ে নতুন আইনে তদন্তের দায়িত্ব বাহিনীর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সরকার ও সংসদের প্রতি পুনর্বিবেচনার আহ্বান

সাবেক এই চিফ প্রসিকিউটর সংসদে আইনগুলো পাস না করে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। তিনি সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, এই আইনের পক্ষে ভোট না দিতে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে তরুণদের আত্মত্যাগের প্রেক্ষাপট মাথায় রেখে এমন আইন হওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্যও কথাগুলো তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির পথে ভুক্তভোগীরা যেভাবে সুরক্ষা পায়, পরিবার ও সমাজ—সব দিকেই তার প্রভাব পড়ে। তদন্তের প্রক্রিয়া যদি পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে, মানুষ নিরাপত্তার প্রত্যাশা কোথায় দাঁড় করাবে—এটিই আসল প্রশ্ন।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

তাজুল ইসলাম মূল আপত্তি কোথায়?
বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব একই বাহিনীর হাতে দিলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে না—এটাই তার মূল বক্তব্য।

আইন নিয়ে তার উদ্বেগ কী?
ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করলে সেটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার ঝুঁকি এবং তদন্তে পক্ষপাতের আশঙ্কা।

সরকারের কাছে তিনি কী চান?
প্রস্তাবিত আইন সংসদে পাস না করে পুনর্বিবেচনার আহ্বান।

আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর

সূত্র: prothomalo.com

Social Icons