রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রামেকে রোগভোগ কমাতে এবং অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে জোর দাবি তুলেছে ছাত্রদল। পরিচালক বরাবর স্মারকলিপিতে অনিয়ম, অসৌজন্য, দালালচক্র ও জরুরি সেবার ঘাটতির অভিযোগ এসেছে।
পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলামের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। স্মারকলিপিতে বলা হয়, হাসপাতালটি বৃহত্তর রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসাস্থল। কিন্তু সার্বিক পরিবেশ, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
ওষুধ-সেবা নয়, অভিযোগ হলো আচরণ ও বিলম্ব নিয়ে
ছাত্রদলের অভিযোগ, হাসপাতালের কিছু নার্স, ওয়ার্ডবয় ও চিকিৎসকের অসহযোগিতামূলক আচরণ এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বহির্বিভাগে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেক রোগী চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া বিশেষ সুবিধায় নিয়মবহির্ভূতভাবে সেবা দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। ফলে রোগীদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
পরিচ্ছন্নতা, খাবারের মান ও চিকিৎসা কার্যক্রমে বাধা
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন ওয়ার্ড, ওয়াশরুম ও করিডোরে পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি রয়েছে। রোগীদের সরবরাহ করা খাবারের মান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে ওয়ার্ড রাউন্ড না করার কারণে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে—এমন কথাও উঠে আসে।
হৃদরোগ ও স্ট্রোকসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে শয্যা সংকটের কারণে রোগীদের মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। সিসিইউসহ বিশেষায়িত ইউনিটের সক্ষমতাও প্রয়োজনের তুলনায় কম বলে দাবি করা হয়।
দালালচক্র ও অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট নিয়ে কড়া অভিযোগ
দালালচক্র ও অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম নিয়েও অভিযোগ তোলে ছাত্রদল। তাদের দাবি, এর ফলে রোগী ও স্বজনরা প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। জরুরি বিভাগে অক্সিজেন, নেবুলাইজেশনসহ প্রয়োজনীয় তাৎক্ষণিক চিকিৎসা উপকরণের ঘাটতি এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন অচল থাকার কথাও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কিছু আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং অসাধু চক্রের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতাল সংলগ্ন অ্যাম্বুলেন্স সেবায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, মানহীন যানবাহন ব্যবহার এবং বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স আনলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এসেছে।
যে নয় দফা দাবি
সমস্যা সমাধানে নয় দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রোগীদের অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ২৪ ঘণ্টার কার্যকর হটলাইন ও আধুনিক অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সেল চালু করা, বহির্বিভাগে বসার স্থান ও অপেক্ষাকক্ষ-কাউন্টার বৃদ্ধি করে সমান ও স্বচ্ছ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসকদের নিয়মিত ওয়ার্ড রাউন্ড নিশ্চিত করা।
আরও বলা হয়েছে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিরুৎসাহিত করা, হাসপাতাল প্রাঙ্গণকে দালাল ও সিন্ডিকেটমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান চালানো, পরিচ্ছন্নতা-স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা।
প্রবাসী পাঠকের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
রামেকের মতো বড় হাসপাতালের সেবা মানে অবহেলা হলে সবচেয়ে বেশি ভোগে রোগী ও পরিবার। দূরে থাকা স্বজনদের কাছেও বিষয়টি একইভাবে উদ্বেগের—কারও অসুস্থতায় দ্রুত, নিরাপদ ও ন্যায্য সেবা নিশ্চিত হওয়াই প্রবাসী পরিবারের প্রত্যাশা।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
ছাত্রদল কেন স্মারকলিপি দিল?
রামেক হাসপাতালে অনিয়ম, রোগভোগ ও অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধের দাবিতে।
কোন কোন জায়গায় সমস্যা আছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে?
বহির্বিভাগে অপেক্ষা, পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসকদের ওয়ার্ড রাউন্ড, শয্যা সংকট এবং জরুরি উপকরণের ঘাটতি—সব মিলিয়ে।
হটলাইন চালুর দাবি কী উদ্দেশ্যে?
রোগীদের অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ করে নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা।
আরও পড়ুন: এই বিভাগের সর্বশেষ খবর
সূত্র: jagonews24.com









