গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। একই সঙ্গে অবিলম্বে জাতীয় মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের দাবিও উঠেছে। তাদের মতে, দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। এতে কম মজুরিতে শ্রমিকদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন এ বৈঠকের আয়োজন করে।
বৈঠকে শ্রমিক নেতারা বলেন, ন্যায্য মজুরি শ্রমিকের অধিকার। এটি কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়।
তাদের মতে, বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় মজুরি কাঠামো নতুন করে ঠিক করা দরকার।
এ জন্য একটি স্বাধীন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানান তারা। বোর্ডে রাজনৈতিক ও মালিকপক্ষের প্রভাব না রাখার কথাও বলেন শ্রমিক নেতারা।
বাংলাদেশ সংযুক্ত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সেন্ট্রাল প্রেসিডেন্ট ফেরদৌসী বেগম বলেন, দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে।
তার দাবি, এ কারণে অনেক দক্ষ শ্রমিক বিদেশে চলে যাচ্ছেন। এই প্রবণতা ঠেকাতে দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন দরকার।
তিনি গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানান।
শ্রমিক নেতারা বলেন, শুধু মূল বেতন বাড়ালেই হবে না।
শ্রমিকদের বাড়িভাড়া, রেশন ও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। চিকিৎসা ও শিক্ষার সুযোগও বাড়াতে হবে।
এর পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
ট্রেড ইউনিয়ন ও যৌথ দরকষাকষির অধিকার কার্যকর করার কথাও বলেন শ্রমিক নেতারা।
জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি মাহাতাব উদ্দিন শহীদ বলেন, আইন অনুযায়ী তিন বছর পর মজুরি বোর্ড পুনর্গঠনের কথা।
তবে এই প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানান।
শ্রমিক নেতা শাহিদাও গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানান।
তিনি বলেন, বর্তমান বাজারে কম মজুরিতে পরিবার চালানো কঠিন।
দ্রব্যমূল্য ও বাড়িভাড়া বাড়ার সঙ্গে মিল রেখে মজুরি দ্রুত পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।
সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তারও দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করা হলে রাজপথে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
পোশাক খাতসহ বিভিন্ন খাতের জন্য পৃথক মজুরি বোর্ড গঠনের দাবিও জানান তিনি।









