GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আইনমন্ত্রী / বার কাউন্সিল পরীক্ষায় নেপোটিজমের সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী

বার কাউন্সিল পরীক্ষায় নেপোটিজমের সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী

ইউএপি ল’ গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান

আইনজীবী হিসেবে সফল হতে হলে শুরুতেই অর্থের পেছনে না ছুটে পেশাগত দক্ষতা, মেধা ও সততা অর্জনে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, দুর্নীতি বা কোনো ধরনের শর্টকাটের মাধ্যমে দ্রুত অর্থবিত্ত অর্জনের চেষ্টা না করে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে একজন আদর্শ আইনজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

শুক্রবার রাজধানীর গ্রিন রোডে ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের (ইউএপি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক ফেলিসিটেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ইউএপির ল’ গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা দিতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আইনমন্ত্রী বলেন, বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট পরীক্ষা পদ্ধতি স্বচ্ছ ও কঠোর করার অন্যতম লক্ষ্য হলো মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আইন পেশায় প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করা। যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইনজীবী হিসেবে সনদ পেয়েছেন, তারা কারও অনুকম্পায় নয়, নিজেদের যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতেই এই অবস্থানে পৌঁছেছেন।

তিনি বলেন, এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় নেপোটিজমের কোনো সুযোগ নেই। এমনকি এনরোলমেন্ট কমিটির সদস্যদের সন্তানদেরও পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার নজির রয়েছে। তাই নবীন আইনজীবীদের নিজেদের যোগ্যতার ওপর আস্থা রেখে পেশাগত জীবন শুরু করতে হবে।

আসাদুজ্জামান বলেন, আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হতে হলে ক্যারিয়ারের শুরুতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। শুরুর দিকে কাজ ও পারিশ্রমিক তুলনামূলক কম হতে পারে। এ সময় হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে। অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাজের সুযোগ ও পারিশ্রমিকও বাড়বে।

নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পেশাজীবনের শুরুতেই অর্থ উপার্জনকে প্রধান লক্ষ্য না বানিয়ে দক্ষ ও যোগ্য আইনজীবী হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলায় গুরুত্ব দিতে হবে। মেধা, সততা, নৈতিকতা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই পেশায় নিজের অবস্থান তৈরি করা উচিত।

আইনজীবীদের পেশাগত নৈতিকতার ওপরও গুরুত্ব দেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, দুর্নীতি বা শর্টকাটের পথ বেছে নিয়ে দ্রুত অর্থবিত্ত অর্জনের চেষ্টা করা উচিত নয়। একই সঙ্গে আইনজীবীদের সামাজিক দায়িত্বের কথাও মনে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও আইনজীবীদের দায়িত্ব। পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পরিচালিত মামলার পাশাপাশি সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের কিছু মামলা বিনামূল্যে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, আইনজীবীদের সবকিছু শুধু অর্থের মানদণ্ডে বিচার করা উচিত নয়। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখাও এই পেশার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

দেশে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী থাকলেও তাদের জন্য পর্যাপ্ত পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আইন পেশাকে আরও মর্যাদাপূর্ণ ও দক্ষতাভিত্তিক পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান আইনমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএপির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান কে. এম. মজিবুল হক, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য প্রফেসর ড. মহিউদ্দিন আহমেদ ভূঁইয়া এবং স্কুল অব ল’র ভারপ্রাপ্ত ডিন প্রফেসর ড. এম. এ. বাকি খলিলি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউএপির ডিপার্টমেন্ট অব ল’ অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. নূর-ই মেডিনা সূরাইয়া জেসমিন।

পরে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ইউএপির ল’ গ্র্যাজুয়েটদের সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সম্মাননাপ্রাপ্ত গ্র্যাজুয়েট ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

Tagged:

Social Icons