ঢাকার যানজট নিরসনে সাতটি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে তেজগাঁও কার্যালয়ে এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে ঢাকার যানজট পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফ্লাইওভারে যানবাহনের চাপ নিয়েও কথা হয়।
গণপরিবহন, বাস টার্মিনাল, পার্কিং ব্যবস্থা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভারের টোল প্লাজায় ইটিসি ব্যবস্থা চালু করা হবে।
ইটিসি চালু হলে টোল আদায় আরও দ্রুত হবে। পুরো ব্যবস্থা প্রযুক্তিনির্ভর হবে।
এ জন্য একটি অ্যাপ তৈরি করা হবে। সংশ্লিষ্টদের আগামী চার মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে।
যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের আশপাশের যানজট নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
এ সমস্যা সমাধানে বুয়েটের আগের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে। বুয়েটকে ১৫ দিনের মধ্যে নতুন সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশ মিলে এ কাজ করবে।
ঢাকার গণপরিবহন নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত হয়েছে। ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জমি অধিগ্রহণ করা হবে।
টার্মিনালটি সরানো হলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় অংশে বাসের চাপ কমবে। আন্তঃজেলা যানবাহনের চাপও কমতে পারে।
স্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণে সময় লাগবে। তাই আগামী চার মাসের মধ্যে ঝিলমিল প্রকল্পের ১৫ একর জমিতে অস্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে।
গাবতলী বাস টার্মিনালের পেছনের অংশও সম্প্রসারণ করা হবে। এতে বাস ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হবে।
এ কাজ দ্রুত করতে সড়ক বিভাগ, ট্রাফিক পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে।
রাজধানীর যানজট কমাতে কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট গাবতলীতে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সচিবালয়ের আশপাশের যানজট নিয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
প্রয়োজনে আরও বিকল্প পার্কিংয়ের স্থান খোঁজা হবে। এতে সচিবালয়কেন্দ্রিক যানবাহনের চাপ কমানোর চেষ্টা করা হবে।
ঢাকায় অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণেও নতুন নীতিমালা করা হবে। এ জন্য পৃথক নীতিমালা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া অনুমোদনহীন ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।









