GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / রাজনীতি / ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপি ও কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সমঝোতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপি ও কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সমঝোতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় এনসিপি ও কওমি ছাত্র নেতাদের বৈঠক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এনসিপি ও কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ সমঝোতা হয়। জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় বৈঠকের পর এ কথা জানান এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ বিক্ষোভ করে। তারা এনসিপি ও হাসনাত আব্দুল্লাহকে বয়কটের ঘোষণাও দেয়।

শনিবার বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সমাবেশ করে এনসিপি। এরপর সন্ধ্যা ৬টার দিকে জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় যান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

তার সঙ্গে ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা মো. আতাউল্লাহ। ছিলেন মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদীও।

মাদ্রাসায় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তারা। বৈঠকে ছিলেন মুফতি মোবারক উল্লাহ। ছিলেন মাওলানা আলী আকবর। কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতা খালেদ সাইফুল্লাহও ছিলেন।

বৈঠকে হাসনাত আব্দুল্লাহর বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনে তারা একসঙ্গে ছিলেন। মাদ্রাসার শিক্ষকরা তাদের ওস্তাদ। অনেক আলেম তাদের দুঃখ প্রকাশ করতে বলেছেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, দুঃখ প্রকাশ করলে কেউ ছোট হয় না। তাই তারা মাদ্রাসায় এসেছেন। দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এরপর শিক্ষকদের দোয়া নিয়েছেন।

তিনি জানান, বৈঠকে একটি দাবি জানানো হয়েছে। হাসনাত আব্দুল্লাহকে সেই দাবি পূরণ করতে হবে।

জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে দেওয়া বক্তব্য আবার উপস্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে। সেখানে সঠিক তথ্য তুলে ধরার কথাও বলা হয়েছে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে বাইরে থেকে অনেকে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। তবে এটি তাদের নিজেদের বিষয়। আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান হয়েছে।

তিনি বলেন, ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে

এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ ও মাদ্রাসাছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেই ঘটনাও তুলে ধরেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

তার দাবি, মাদ্রাসাছাত্ররা পুলিশ লাইন্সের গানের অনুষ্ঠান বন্ধ করেনি। বরং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ৩০ জন মাদ্রাসাছাত্র আহত হয়েছেন।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের সমালোচনা করেন তিনি। তার দাবি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রকৃত ঘটনা জানলে মাদ্রাসাছাত্রদের পাশে দাঁড়াতেন।

যেভাবে বিরোধের শুরু

শুক্রবার দিবাগত রাতে জামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের ব্যানারে হয়।

জাতীয় সংসদে হাসনাত আব্দুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে এনসিপি ও হাসনাত আব্দুল্লাহকে বয়কটের ঘোষণা দেওয়া হয়।

শনিবার দুপুরে নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেয় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে হামদ-নাত অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়া হয়।

একই জায়গায় এনসিপির সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। এতে শহরে উত্তেজনা তৈরি হয়। এনসিপির সমাবেশ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

এর মধ্যে শনিবার দুপুরে ফেসবুকে পোস্ট দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন।

এরপর কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়।

পরে মাদ্রাসায় যান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সেখানে শিক্ষক ও কওমি ছাত্র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক শেষে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার কথা জানান এনসিপির এই নেতা।

Social Icons