রাত জেগে সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রলিং এখন অনেকের জীবনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা ছবি বা ভিডিও দেখে সময় পার হলেও পরদিন সকালে তা আর মনে থাকে না।
প্রযুক্তির এই অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে চালানো একাধিক গবেষণায় এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়ানা তামিরের গবেষণায় দেখা গেছে, যারা অভিজ্ঞতার ছবি তুলে শেয়ার করেন তাদের সেই স্মৃতির স্পষ্টতা কম থাকে।
অন্যদিকে যারা সশরীরে অভিজ্ঞতা উপভোগ করেন, তাদের স্মৃতি অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী হয়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, অল্প সময়ে প্রচুর তথ্য প্রবেশ করলে মস্তিষ্ক তা স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করতে পারে না।
‘Frontiers in Psychiatry’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় তরুণদের স্মৃতি বিভ্রাটের প্রধান কারণ হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়াকে দায়ী করা হয়েছে।
অনিয়ন্ত্রিত স্ক্রলিংয়ের ফলে ছোটখাটো দৈনন্দিন বিষয় ভুলে যাওয়ার প্রবণতা অনেক বেড়ে যায়।
মস্তিষ্কের এই সমস্যা সৃষ্টির পেছনে বিজ্ঞানীরা মূলত ‘গুগল এফেক্ট’ বা তথ্যের অতিরিক্ত ভাগাভাগিকে দায়ী করছেন।
সহজে গুগলে তথ্য পাওয়ার কারণে মস্তিষ্ক নিজে থেকে কিছু মনে রাখার তাগিদ হারিয়ে ফেলে।
নিরন্তর নোটিফিকেশন ও নতুন তথ্যের ভিড় মস্তিষ্কের গভীর মনোযোগের ক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে দেয়।
স্ক্রল করার সাথে সাথে ক্ষরিত ডোপামিন হরমোন মানুষকে একধরনের আচরণগত আসক্তির দিকে ঠেলে দেয়।
ক্যামেরায় বন্দী না থাকা মুহূর্তগুলো অবচেতন মন থেকে মুছে গিয়ে ‘ডিজিটাল অ্যামনেশিয়া’ তৈরি হয়।
জরুরি ফোন নম্বর বা ঠিকানা প্রযুক্তির মেমরিতে রাখায় মস্তিষ্ক নিজের স্বাভাবিক চর্চা হারিয়ে ফেলে।
তবে এটি মস্তিষ্কের স্থায়ী কোনো ক্ষতি নয়, বরং সচেতন হলে মনোযোগ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
স্মৃতিশক্তি ফেরাতে যেকোনো মুহূর্ত ক্যামেরায় বন্দী না করে তা মন থেকে উপভোগ করতে হবে।
কাজের ফাঁকে ও ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের ডিজিটাল স্ক্রিন বন্ধ রাখা জরুরি।
একই সময়ে একাধিক কাজ না করে একবারে একটি কাজে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
নিয়মিত বই পড়া, ব্যায়াম করা এবং পরিবারকে সরাসরি সময় দেওয়া এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে।









