চোখের পরিবর্তন অনেক সময় শরীরের ভেতরের সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। চোখের রং, আকার ও মণির পরিবর্তন দেখে কিছু রোগের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
চোখের মণির আকার আলো অনুযায়ী বদলায়। আলো বেশি হলে মণি ছোট হয়। অন্ধকারে এটি বড় হয়।
তবে এই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ায় অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে এটি স্নায়বিক সমস্যা বা নির্দিষ্ট ওষুধ ও মাদক গ্রহণের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
অস্বাভাবিক বড় মণি কিছু মাদকের প্রভাবে দেখা যেতে পারে। আবার হেরোইনের মতো মাদক নিলে মণি ছোট হয়ে আসতে পারে।
চোখের সাদা অংশ লাল হয়ে যাওয়াও নানা কারণে হতে পারে। সংক্রমণ বা প্রদাহে চোখ লাল হতে পারে। মদ্যপান বা মাদক গ্রহণের সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে।
তবে চোখ দীর্ঘদিন লাল থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। গুরুতর সংক্রমণ, প্রদাহ, কন্টাক্ট লেন্সের জটিলতা বা গ্লুকোমার কারণেও চোখ লাল হতে পারে।
চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে গেলে জন্ডিসের লক্ষণ হতে পারে। লিভারের সমস্যার কারণেও এমন পরিবর্তন দেখা যায়। হেপাটাইটিস, লিভারে প্রদাহ এবং কিছু অন্য রোগের সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে।
চোখের সাদা অংশে হঠাৎ লাল দাগ দেখা দিলে সেটি অনেক সময় গুরুতর কিছু নয়। ছোট রক্তনালি ফেটে গেলে এমন হতে পারে। একে সাবকনজাংকটিভাল হেমারেজ বলা হয়।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই রক্তের দাগ কয়েক দিনের মধ্যে নিজে থেকেই চলে যায়। তবে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা রক্ত জমাটের সমস্যায় এমন হতে পারে।
রক্ত পাতলা করার কিছু ওষুধের কারণেও চোখে রক্তের দাগ দেখা দিতে পারে। বারবার এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কর্নিয়ার চারপাশে সাদা বা ধূসর রিংও দেখা যেতে পারে। এটি শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। হৃদরোগের ঝুঁকির সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে।
তবে বয়স বাড়লে অনেকের চোখে স্বাভাবিকভাবেও এমন রিং দেখা যায়। এই অবস্থাকে অ্যারকাস সেনাইলিস বলা হয়।
চোখের সাদা অংশে হলুদাভ ছোট অংশ তৈরি হলে সেটি পিংগুয়েকুলা হতে পারে। এতে মেদ ও প্রোটিন জমে এমন অংশ তৈরি হয়।
চোখের আরেকটি সমস্যা হলো টেরিজিয়াম। এতে চোখের সাদা অংশে বাড়তি টিস্যু তৈরি হয়। এটি সাধারণত ক্ষতিকর নয়।
তবে টেরিজিয়াম কর্নিয়ার দিকে বাড়তে থাকলে দৃষ্টিতে সমস্যা হতে পারে। দীর্ঘদিন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে থাকলে এসব সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
চোখ হঠাৎ ফুলে সামনে বেরিয়ে আসার মতো দেখালেও সতর্ক হতে হবে। থাইরয়েডের সমস্যার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে।
শুধু একটি চোখ ফুলে গেলে আঘাত, সংক্রমণ বা চোখের পেছনের অন্য সমস্যার কারণও থাকতে পারে।
চোখের পাতাতেও বিভিন্ন সমস্যার লক্ষণ দেখা যায়। আঞ্জনি বা স্টাই হলে চোখের পাতা ফুলে লাল হয়ে যায়। সাধারণত তেলগ্রন্থি বন্ধ হয়ে এ সমস্যা হয়।
কনজাংকটিভাইটিস বা চোখ ওঠাও বেশ পরিচিত সমস্যা। আবার মানসিক চাপ, পুষ্টির ঘাটতি বা অতিরিক্ত কফি পান করলে চোখের পাতায় কাঁপুনি হতে পারে।
চোখে কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দীর্ঘদিন থাকলে নিজে থেকে রোগ নির্ণয় করা ঠিক নয়। কারণ নিশ্চিত হতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।








