ব্রিটিশ রাজপরিবারের কর্মরত সদস্যের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেলের জীবনের বড় একটি অংশ কেটেছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। সন্তান প্রিন্স আর্চি ও প্রিন্সেস লিলিবেটকে নিয়ে তাদের পারিবারিক জীবনের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল মন্টেসিটোর বিলাসবহুল বাড়িটি।
সম্প্রতি তাদের যুক্তরাজ্যে নতুন করে বসবাস শুরু করার খবর আলোচনায় আসার পর আবারও নজরে এসেছে সেই স্বপ্নের বাড়ি। প্রায় ১৪ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে কেনা সম্পত্তিটির মূল্য অস্ট্রেলীয় মুদ্রায় প্রায় ২১ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ।
শান্তি আর ব্যক্তিগত জীবনের ঠিকানা
২০২০ সালে রাজপরিবারের কর্মরত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব থেকে সরে আসার পর হ্যারি ও মেগান যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। কিছুদিনের মধ্যেই তারা ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটো এলাকায় সাত একরের বেশি জায়গাজুড়ে থাকা এই বিশাল সম্পত্তি কিনে নেন।
শুধু বিলাসবহুল বাড়ি নয়, জায়গাটি তাদের কাছে হয়ে ওঠে নিরাপত্তা, গোপনীয়তা ও পারিবারিক শান্তির প্রতীক।
২০২২ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেগান জানিয়েছিলেন, বাড়িটিতে প্রবেশ করলেই তার মনে এক ধরনের প্রশান্তি কাজ করে। বাড়ির পরিবেশকে তিনি এমন একটি জায়গা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন, যেখানে পরিবার নিয়ে স্বাভাবিকভাবে থাকা যায় এবং বাইরের চাপ থেকে কিছুটা দূরে থাকা সম্ভব।
প্রথমে বাড়িটি দেখতেও চাননি
মজার বিষয় হলো, শুরুতে হ্যারি ও মেগান মনে করেছিলেন বাড়িটি তাদের সামর্থ্যের বাইরে।
যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সময় তাদের কর্মজীবনও তখন নতুনভাবে শুরু হচ্ছিল। সে কারণে এত দামি একটি সম্পত্তি কেনার কথা প্রথমে ভাবেননি তারা।
তবে বাড়িটি দেখতে যাওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। চারপাশের পরিবেশ, গাছপালা এবং নিরিবিলি আবহ তাদের দুজনকেই মুগ্ধ করে।
মেগান এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, বাড়ির আঙিনায় থাকা পাশাপাশি দুটি পামগাছ দেখে হ্যারি নাকি তাদের দুজনের সম্পর্কের সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই বাড়িটিই হয়ে ওঠে তাদের পরিবারের নতুন ঠিকানা।
সবুজে ঘেরা বিশাল সম্পত্তি
হ্যারি-মেগানের মন্টেসিটোর বাড়িটির অন্যতম আকর্ষণ হলো এর বিশাল খোলা জায়গা।
সম্পত্তিটিতে রয়েছে—
- বিস্তৃত সবুজ বাগান
- গোলাপের বাগান
- বড় সুইমিংপুল
- টেনিস কোর্ট
- অতিথিদের জন্য আলাদা গেস্ট হাউস
- চা-বাড়ি
- শিশুদের খেলাধুলার জায়গা
- মুরগি পালনের আলাদা ব্যবস্থা
চারদিকে গাছপালা ও ব্যক্তিগত সীমানা থাকায় বাইরে থেকে বাড়িটির ভেতরের অংশ খুব সহজে দেখা যায় না। ফলে পরিবারের গোপনীয়তা রক্ষার জন্যও জায়গাটি বেশ উপযোগী।
বাড়ির ভেতরেও রাজকীয় আয়োজন
বাড়ির বাইরের পরিবেশ যতটা আকর্ষণীয়, ভেতরের সুযোগ-সুবিধাও কম নয়।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে রয়েছে ব্যক্তিগত লাইব্রেরি, অফিস, ব্যায়ামাগার, সনা, খেলার ঘর এবং বিনোদনের জন্য আলাদা জায়গা।
এ ছাড়া রয়েছে আর্কেড রুম, ওয়াইন সেলার এবং একসঙ্গে পাঁচটি গাড়ি রাখার মতো বড় গ্যারেজ।
বাড়ির বিভিন্ন অংশে ক্লাসিক ও আধুনিক নকশার সমন্বয় দেখা যায়। বড় জানালা, প্রাকৃতিক আলো এবং চারপাশের সবুজ পরিবেশ বাড়িটির ভেতরেও প্রশান্ত একটি আবহ তৈরি করে।
কেন নিজের বাড়িতে শুটিং করেননি মেগান?
মেগানের নেটফ্লিক্স সিরিজ ‘উইথ লাভ, মেগান’ প্রকাশের পর অনেকেই ভেবেছিলেন, সিরিজটির বেশিরভাগ দৃশ্য হয়তো তার নিজের মন্টেসিটোর বাড়িতেই ধারণ করা হয়েছে।
কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিরিজটির অধিকাংশ শুটিং হয়েছে কাছাকাছি অন্য একটি সম্পত্তিতে। নিজের বাড়ির কেবল সীমিত কিছু অংশ ক্যামেরার সামনে এনেছেন মেগান।
এর কারণও ছিল ব্যক্তিগত।
মেগান জানিয়েছেন, নিজের বাড়িকে তিনি পরিবারের জন্য ব্যক্তিগত জায়গা হিসেবেই রাখতে চান। সন্তানদের ঘুমানো, পরিবারের একসঙ্গে খাবার খাওয়া কিংবা দিনের শেষে নিজেদের মতো সময় কাটানোর পরিবেশে বড় একটি শুটিং দল প্রবেশ করুক—এটা তিনি চাননি।
তার ভাষায়, বাড়ির রান্নাঘর পরিবারের জন্য; বড় একটি প্রোডাকশন টিমের কাজের জায়গা হিসেবে সেটি ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।
আর্চি ও লিলিবেটের জন্য নিজস্ব এক জগৎ
বাড়িটি হ্যারি ও মেগানের জন্য যেমন শান্তির জায়গা, তাদের দুই সন্তানের জন্যও তেমনি বড় একটি ব্যক্তিগত জগৎ।
বিস্তৃত বাগান, খোলা জায়গা, সুইমিংপুল ও খেলাধুলার ব্যবস্থা থাকায় বাড়ির মধ্যেই শিশুদের জন্য অনেক ধরনের বিনোদনের সুযোগ রয়েছে।
হ্যারি ও মেগান বরাবরই সন্তানদের ব্যক্তিগত জীবন যতটা সম্ভব প্রচারের আলো থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছেন। তাই বাড়ির কিছু অংশ বিভিন্ন ভিডিও, সাক্ষাৎকার ও ছবিতে দেখা গেলেও সম্পত্তিটির বড় অংশ এখনও সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালেই রয়েছে।
এবার কি বদলে যাচ্ছে ঠিকানা?
নতুন করে যুক্তরাজ্যে বসবাসের পরিকল্পনা ঘিরে হ্যারি-মেগানকে নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্তানদের পড়াশোনা এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে সামনে রেখে তারা যুক্তরাজ্যে নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে তারা আবার ব্রিটিশ রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বে ফিরছেন।
তাদের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন মূলত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
২০২০ সালের পর থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোর বাড়িটি ছিল হ্যারি-মেগানের স্বাধীন জীবনের অন্যতম প্রতীক। রাজকীয় দায়িত্বের বাইরে নিজেদের মতো করে পরিবার গড়ে তোলা, সন্তানদের বড় করা এবং নতুন কর্মজীবন শুরু—সবকিছুর সাক্ষী এই বাড়ি।
এখন তাদের জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হলেও, মেগানের ভাষায় শান্তি ও স্বস্তির সেই মন্টেসিটোর বাড়িটি তাদের ক্যালিফোর্নিয়া জীবনের অন্যতম স্মরণীয় ঠিকানা হয়েই থাকবে।
সূত্র: এনডিটিভি









