সামাজিক অনুষ্ঠানে বা পারিবারিক আড্ডায় বয়স একটু বাড়লেই অন্যতম বহুল চর্চিত প্রশ্ন—‘বিয়ে কবে করছেন?’ কেউ মিষ্টি হেসে এড়িয়ে যান, কেউবা বিরক্তি প্রকাশ করেন; তবে বর্তমানে বহু নারী-পুরুষই বিয়ের এই চেনা ছক পেরিয়ে অবিবাহিত থেকে নিজের মতো স্বাধীনতা ও আত্মোন্নতি উপভোগ করতে পছন্দ করছেন।
আর এই স্বাবলম্বী ও স্বাধীনচেতা সিঙ্গেল মানুষদের সম্মান জানাতে উদযাপিত হচ্ছে ‘জাতীয় অবিবাহিত দিবস’; যার মূল লক্ষ্য হলো অবিবাহিত থাকা মানেই একা, বিষণ্ণ কিংবা ‘কেউ না পাওয়া’—এমন পুরোনো সেকেলে সামাজিক ধ্যানধারণাকে ভেঙে দেওয়া।
অবিবাহিত দিবসের প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস: ১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওর ‘বাকআই সিঙ্গেলস কাউন্সিল’ প্রথম অবিবাহিতদের জন্য উদযাপনের সুযোগ তৈরি করতে ‘জাতীয় অবিবাহিত সপ্তাহ’ চালু করে। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে ১১ জানুয়ারি দিনটিকে প্রতীকী রূপ দিয়ে জাতীয় অবিবাহিত দিবস ঘোষণা করা হলেও ২০১৭ সাল থেকে সিদ্ধান্ত হয়—প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের তৃতীয় পূর্ণ সপ্তাহের শেষ শনিবারে দিনটি আন্তর্জাতিকভাবে পালন করা হবে।
বদলানো জীবনবোধ ও ইতিহাস: একসময় অবিবাহিত থাকা নিয়ে সমাজে নেতিবাচক মন্তব্য থাকলেও এখন তা পাল্টেছে; ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথ যেমন রাজকীয় চাপ সত্ত্বেও সারাজীবন অবিবাহিত থেকে ৪৫ বছর দক্ষতার সাথে দেশ শাসন করেছিলেন, তেমনই আজকের যুগে তরুণ-তরুণীরা ক্যারিয়ার, ভ্রমণ, ব্যক্তিত্বের বিকাশ ও মানসিক শান্তিকে প্রাধান্য দিয়ে সিঙ্গেল লাইফ বেছে নিচ্ছেন।
গবেষণায় অবিবাহিত জীবনের ইতিবাচক প্রভাব: বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক জরিপে দেখা গেছে—অবিবাহিত মানুষেরা পরিবার ও বন্ধুদের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বেশি মনোযোগী হন এবং আত্মউন্নয়নমূলক কাজে তাদের শারীরিক সক্রিয়তাও বেশি থাকে; এছাড়াও নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকার কারণে তাদের মধ্যে মানসিক স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধি পায়।
পরিসংখ্যান কী বলছে? আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একা থাকার অর্থ জীবনসঙ্গী খোঁজা নয়; কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই ১৮ বছরের ঊর্ধ্বের প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখের বেশি অবিবাহিত মানুষের মধ্যে ৫৬ শতাংশেরও বেশি তরুণ-তরুণী নিশ্চিত করেছেন যে তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো ভালোবাসার সম্পর্ক বা বিয়ের সিদ্ধান্ত খুঁজছেন না।
তাই জাতীয় অবিবাহিত দিবসে পছন্দের বই পড়া, ট্রাভেল করা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া কিংবা সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত থেকে নিজের স্বাধীনতা ও সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানোই হতে পারে সেরা উদযাপন; কারণ সুখী থাকার ও নিজেকে ভালোবাসার সংজ্ঞা সবার জন্য এক নয়।
