GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / নেপালে বন্যা-ভূমিধসে বাড়ছে প্রাণহানি, নিখোঁজ ২ হাজার ৫০২

নেপালে বন্যা-ভূমিধসে বাড়ছে প্রাণহানি, নিখোঁজ ২ হাজার ৫০২

নেপালে হিমবাহ ধস

হিমবাহ ধসে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫২ জনে দাঁড়িয়েছে। ঘটনার চার দিন পরও নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ।

রোববার (৩০ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে এ তথ্য জানায় জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) ও পুলিশ।

নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা ২ হাজার ৫০২ জন। তাদের মধ্যে ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ১৮৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানে প্রায় ২০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী কাজ করছেন।

এদিকে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডও বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে তথ্য দিয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, ২৬১ জন বিদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে এখনো ৩২০ জন পর্যটকের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি

তিব্বতেও প্রাণহানি

নেপালের পাশাপাশি চীনের তিব্বতেও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের ভূমিধসে ১৬ জন নিহত হয়েছেন

সেখানে এখনো ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৩ দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।

তাদের মধ্যে ১৫ জন ব্রিটিশ নাগরিক

নেপালি কর্তৃপক্ষ এর আগে ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছিল। তবে তিব্বতের দিকে সীমান্ত পার হওয়ার সময় নিখোঁজ হওয়া এসব ব্রিটিশ নাগরিকের কতজন চীনের তালিকায় রয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

চীনের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে তিব্বতের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া কঠিন হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

নতুন বন্যার আশঙ্কা

এই দুর্যোগের পর নতুন করে বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে সতর্ক করেছেন একজন বিশেষজ্ঞ।

রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্যা পূর্বাভাস ও দুর্যোগ ঝুঁকি গবেষক জেফ দা কস্তার মতে, আকস্মিক বন্যার কারণে বিভিন্ন নদীতে ধ্বংসাবশেষ জমেছে।

এসব ধ্বংসাবশেষ নদীর পানি আটকে দিতে পারে। এর ফলে উজানে নতুন হ্রদ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, আরেকটি বন্যা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। সেটি প্রথম বন্যার চেয়ে ছোট হলেও বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।

এখন হ্রদ ও প্রাকৃতিক বাঁধগুলোর পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। কোথায় এসব বাঁধ ভেঙে যেতে পারে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

চীন-নেপালের তথ্য বিনিময়ের তাগিদ

জেফ দা কস্তা চীন ও নেপালের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

তার মতে, উজানে কোনো ঘটনা ঘটলে সীমান্তের ওপারের মানুষও দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাই ঝুঁকির তথ্যও দ্রুত একে অপরের কাছে পৌঁছানো প্রয়োজন।

এই তথ্য মাঠপর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে কাজে লাগাতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনও এই দুর্যোগের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট বলে উল্লেখ করেছেন গবেষক।

তার মতে, তাপমাত্রা বাড়ার কারণে হিমবাহ, পারমাফ্রস্ট ও হিমালয়ের ঢালের স্থিতিশীলতায় পরিবর্তন আসছে।

তবে আরও বিশ্লেষণ ছাড়া এই দুর্যোগকে সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল বলা যাবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

সূত্র: বিবিসি, এনডিটিভি

Tagged:

Social Icons