GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জীবনযাপন ও স্বাস্থ্য / জীবনযাপন / অন্যান্য / লালদিয়া টার্মিনাল ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির মাইলফলক হবে: অর্থমন্ত্রী

লালদিয়া টার্মিনাল ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির মাইলফলক হবে: অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল দেশের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার ক্ষেত্রে মাইলফলক হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রোববার (৩০ আগস্ট) লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ডেনমার্কভিত্তিক টার্মিনাল অপারেটর এপিএম টার্মিনালস ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, লালদিয়া টার্মিনাল শুধু চট্টগ্রাম বা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে না। এটি পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক হাব হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী করার কথা প্রায়ই বলা হয়। তবে বাণিজ্যিক রাজধানী শুধু ঘোষণা দিয়ে তৈরি হয় না। বিভিন্ন প্রকল্প ও বিনিয়োগের মাধ্যমে এটি গড়ে ওঠে।

চট্টগ্রামে আরও বড় প্রকল্প আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে বলে জানান তিনি।

তার মতে, এভাবে কার্যক্রম বাড়তে থাকলে চট্টগ্রাম একসময় সত্যিকারের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে উঠবে।

৫৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ

ডেনমার্কের বিনিয়োগ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এপিএম টার্মিনালস বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে টার্মিনাল পরিচালনা করছে।

চট্টগ্রামের লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণে প্রতিষ্ঠানটি ৫৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।

ভবিষ্যতে এই বিনিয়োগ আরও বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এপিএম টার্মিনালসের বাংলাদেশে আসা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। প্রতিষ্ঠানটি লালদিয়ায় আধুনিক বন্দর সুবিধা তৈরি করবে।

এ কাজে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করছে বলেও জানান তিনি।

সুবিধা পাবে পুরো অঞ্চল

লালদিয়া টার্মিনাল চালু হলে এর সুবিধা শুধু বাংলাদেশ পাবে না বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।

তার মতে, আঞ্চলিক বন্দরগুলোও লালদিয়ায় কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করতে পারবে।

এর ফলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে আরও বেশি লাভবান হওয়ার সুযোগ পাবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগের গতি এখন বাড়ছে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাত এগিয়ে এলে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তা ও অংশীদারদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

লালদিয়া টার্মিনালে আধুনিক প্রযুক্তি

এপিএম টার্মিনালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রমেশ ডেভিড জানান, টার্মিনালে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

এখানে থাকবে ৭টি শিপ-টু-শোর গ্যান্ট্রি ক্রেন। থাকবে ৩২টি ইলেকট্রিক রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন।

এ ছাড়া থাকবে ৪১টি ইলেকট্রিক টার্মিনাল ট্র্যাক্টর।

এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়বে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম বন্দরে বাড়বে সক্ষমতা

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান গেটওয়ে।

তার তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি এই বন্দরের মাধ্যমে হয়। কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ৯৮ শতাংশের বেশি চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনা করে।

তিনি জানান, আগামী ১০ বছরে বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং দ্বিগুণ করার লক্ষ্য রয়েছে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে স্বাগত জানান তিনি।

‘নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে’

অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি।

বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও বাড়ছে বলে জানান তিনি। বন্দরে বিনিয়োগে আগ্রহী আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান মন্ত্রী।

তার মতে, লালদিয়া টার্মিনাল প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন একটি অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।

পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন হওয়া এই প্রকল্পে বড় বিনিয়োগ হচ্ছে। এখানে আধুনিক বিভিন্ন সুবিধা থাকবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ অতিথিরা লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এ সময় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য, ব্যবসায়ী নেতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Social Icons