GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আইন ও অপরাধ / আইনশৃঙ্খলা / গুমের ভয়াবহতা না বুঝলে কার্যকর আইন করা যাবে না: তাজুল ইসলাম

গুমের ভয়াবহতা না বুঝলে কার্যকর আইন করা যাবে না: তাজুল ইসলাম

বাংলাদেশে গুমের ঘটনাগুলোর ভয়াবহতা না বুঝলে গুম প্রতিরোধে কার্যকর আইন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

গুমের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে ভয়াবহ তথ্য পাওয়ার দাবিও করেছেন তিনি।

তার দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।

বন্দিদের হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তাজুল ইসলাম।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তাজুল ইসলাম বলেন, গুমের ঘটনা তদন্তের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তাকে অনেক ভয়াবহ তথ্য জানতে হয়েছে।

এসব তথ্য মানুষের সামনে তুলে ধরা জরুরি।

তার মতে, গুমের প্রকৃত ভয়াবহতা মানুষ না বুঝলে সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে উঠবে না

একটি গুমের তদন্তের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন তিনি।

তাজুল ইসলাম জানান, গুমের ঘটনায় জড়িত এক ব্যক্তি প্রথমে কোনো তথ্য দিতে চাননি।

পরে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি তথ্য দেওয়া শুরু করেন।

ওই ব্যক্তি জানান, আগে দেওয়া তথ্য ছিল মাত্র এক শতাংশ।

এরপর তিনি বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন।

তাজুল ইসলাম বলেন, বর্ণনাগুলো এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তদন্ত দলের টাইপিস্টও একপর্যায়ে লেখা চালিয়ে যেতে পারছিলেন না।

তদন্তে গোপন আটককেন্দ্রের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

তার দাবি, সেখান থেকে বন্দিদের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হতো।

পরে তাদের গুলি করে হত্যা করা হতো

মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়ার তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানান তিনি।

কাঁচপুর ব্রিজসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তাজুল ইসলাম।

পদ্মা নদীতে তিন তরুণকে হত্যার একটি ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি।

তাজুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে তিন তরুণকে স্পিডবোটে করে নদীতে নেওয়া হয়েছিল।

সেখানে একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

আরেকজনকে বিষাক্ত ইনজেকশন দিয়ে হত্যা করা হয়।

তৃতীয় ব্যক্তিকেও গুলি করা হয়।

পরে তিনজনের মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

গুম প্রতিরোধে প্রস্তাবিত আইন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাজুল ইসলাম।

তার মতে, গুমের ঘটনায় কোন বাহিনী জড়িত ছিল, তা শনাক্ত করা অনেক সময় কঠিন

অপহরণের সময় জড়িত ব্যক্তিরা পরিচয় গোপন করত বলেও জানান তিনি।

এক বাহিনীর পরিচয়ে অন্য বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালাতেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়ার দাবি করেন তিনি।

এ কারণে নির্দিষ্ট কোনো বাহিনীকে বাদ দিয়ে অন্য বাহিনীকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার বিধান কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সাবেক এই প্রসিকিউটর।

তার মতে, গুমের মতো গুরুতর অপরাধে স্বাধীন তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি

কোনো বাহিনীকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আইন করা হলে ভবিষ্যতে আরও গুরুতর অপরাধের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

গুমের ঘটনা ব্যাপক ও পরিকল্পিত হলে তা মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তাজুল ইসলাম।

গুমের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে আবার গুম ও ভয়ভীতির পরিবেশে ফিরিয়ে নেওয়া যাবে না।

তার মতে, স্বাধীনতার অর্থ শুধু মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয়।

জীবনের নিরাপত্তা এবং গুমের ভয় থেকে মুক্ত থাকাও স্বাধীনতার অংশ।

বাংলাদেশকে নিরাপদ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে গুম প্রতিরোধে কার্যকর আইন ও বিচার নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তাজুল ইসলাম।

Social Icons