GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / রাজনীতি / জাতীয় সংসদ / দুর্নীতিতে জড়িত মালিকের বিচার হবে, কোম্পানি বন্ধ নয়: সংসদে অর্থমন্ত্রী

দুর্নীতিতে জড়িত মালিকের বিচার হবে, কোম্পানি বন্ধ নয়: সংসদে অর্থমন্ত্রী

ঋণখেলাপি কোনো কোম্পানির মালিক দুর্নীতিতে জড়িত হলে তার বিচার হবে। তবে শুধু মালিকের কারণে কোম্পানি বন্ধ করা হবে না বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে নোয়াখালী-৬ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় অধিবেশন পরিচালনা করছিলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

হান্নান মাসউদ তার প্রশ্নে খেলাপি ঋণ ও এস আলম গ্রুপের ঋণের প্রসঙ্গ তোলেন।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালের মার্চের শেষে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ২৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। পরের তিন মাসে এই ঋণ আরও ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেড়েছে।

হান্নান মাসউদের ভাষ্য, ‘ফ্যাসিস্ট’ আমলে ঋণখেলাপিদের কাছ থেকে অনাদায়ী ঋণ আদায় না করে এস আলমের মালিকানাধীন এসএস পাওয়ার ওয়ান লিমিটেডকে ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ ডলারের এলসি খোলার বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

তার দাবি, এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, কোম্পানির পরিচয় একজন ব্যক্তির পরিচয় থেকে আলাদা। কোম্পানি একটি আইনি ও করপোরেট সত্তা।

কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তার বিরুদ্ধে মামলা ও বিচার হতে পারে বলে জানান তিনি।

তবে ওই ব্যক্তির মালিকানাধীন কোম্পানি বন্ধ করে দেওয়া ঠিক হবে না বলে মত দেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, একটি কোম্পানিতে মানুষ চাকরি করে। কোম্পানিটির ঋণের দায়ও থাকে। সেই ঋণ পরিশোধ করতে হয়।

এ ছাড়া অর্থনীতিতে কোম্পানিটির অবদান রয়েছে। তাই মালিকের কারণে কোম্পানি বন্ধ করলে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতিতে ক্ষতি হতে পারে।

দুর্নীতিতে জড়িত ব্যক্তিদের কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেন আমির খসরু। তিনি বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে এবং বিচার হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন ভেঙে কাউকে ঋণ দেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করেন অর্থমন্ত্রী।

আইনে সুযোগ থাকলে কোনো কোম্পানি ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারবে বলেও জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, ‘ইমোশনের উপরে অর্থনীতি চলে না। আইনের উপর অর্থনীতি চলতে হবে।’

রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা

বাগেরহাট-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল আলীমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের তথ্যও জানান।

তিনি বলেন, গত ৩০ জুন পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ জনতা ব্যাংকের। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা

অন্য ব্যাংকগুলোর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা

রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১৯ হাজার ২৮১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা

সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা

বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৮ হাজার ১৩১ কোটি ৯ লাখ টাকা

বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা

Social Icons