GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / লাইফ স্টাইল / লিভার পরিষ্কার রাখতে ‘ডিটক্স’ নয়, প্রতিদিনের খাবারে এই পরিবর্তনগুলো করুন

লিভার পরিষ্কার রাখতে ‘ডিটক্স’ নয়, প্রতিদিনের খাবারে এই পরিবর্তনগুলো করুন

লিভার পরিষ্কার রাখতে ‘ডিটক্স’ নয়, প্রতিদিনের খাবারে এই পরিবর্তনগুলো করুন

লিভার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি। খাবার হজমে সহায়তা, ভিটামিন ও খনিজ সংরক্ষণ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে এটি ভূমিকা রাখে। তাই লিভার সুস্থ রাখতে কোনো দ্রুত ‘ডিটক্স’ সমাধানের ওপর নির্ভর না করে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের দিকে নজর দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভারকে আলাদা করে পরিষ্কার করার জন্য কোনো ‘ম্যাজিক ডিটক্স’ পানীয়ের প্রয়োজন নেই। বরং পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত খাওয়া এবং অতিরিক্ত চিনিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত করাই লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী।

সকালের নাশতায় যা রাখবেন

লিভারের যত্নে দিনের শুরুতে পুষ্টিকর নাশতা রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণায় নিয়মিত নাশতা খাওয়ার সঙ্গে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে বলে চিকিৎসকরা উল্লেখ করেছেন।

দইয়ের সঙ্গে চিয়া সিড, আখরোট ও ব্লুবেরি খাওয়া যেতে পারে। এতে প্রোটিন, ফাইবার, প্রোবায়োটিক, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়।

দুপুরের খাবারে রাখুন পুষ্টিকর উপাদান

দুপুরের খাবারে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মাছের সঙ্গে সাদা বিন, অলিভ অয়েল, টমেটো ও অ্যাভোকাডো খাওয়া যেতে পারে। এসব খাবার থেকে ওমেগা-৩, ফাইবার, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি পাওয়া যায়।

রাতের খাবারেও থাকুক ভারসাম্য

রাতের খাবারে প্রোটিন, ওমেগা-৩, ফাইবার এবং কপি জাতীয় সবজি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

মিসো সস দিয়ে তৈরি স্যামন মাছের সঙ্গে মিষ্টি আলু ও ব্রোকলি খাওয়া যেতে পারে। এতে প্রোটিন, ওমেগা-৩, ফাইবার ও ক্রুসিফেরাস সবজি থাকে।

লিভারের জন্য কোন পানীয় ভালো?

পানীয়ের ক্ষেত্রে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনলসমৃদ্ধ পানীয় বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্ল্যাক কফি, গ্রিন টি, ম্যাচা ও বেরির স্মুদি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পানীয়ে পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।

মিষ্টি খাবার কি পুরোপুরি বাদ দিতে হবে?

লিভার সুস্থ রাখতে মিষ্টি খাবার সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত মিষ্টি খাবার এবং চিনিযুক্ত পানীয় নিয়মিত খাওয়া এড়িয়ে চলা ভালো।

বিকল্প হিসেবে আপেলের সঙ্গে বাদামের মাখন, ডার্ক চকলেট, মধু ও দারুচিনি খাওয়া যেতে পারে। এতে ফাইবার, পলিফেনল ও স্বাস্থ্যকর চর্বি পাওয়া যায় এবং মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছাও কিছুটা পূরণ হতে পারে।

‘ডিটক্স’ নিয়ে বিশেষ সতর্কতা

অনলাইনে লিভার পরিষ্কার বা ডিটক্স করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পানীয় ও ক্লিনজিংয়ের প্রচার দেখা যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভারের নিজস্ব ডিটক্সিফিকেশন ব্যবস্থা রয়েছে। তাই আলাদা কোনো ‘ম্যাজিক ডিটক্স’ পানীয়ের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই।

লিভারের সুস্থতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে ভালো খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা।

অর্থাৎ, লিভার সুস্থ রাখতে আকস্মিক কোনো ‘ডিটক্স’ পদ্ধতির চেয়ে প্রতিদিনের খাবারে পুষ্টিকর উপাদান যুক্ত করা এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

Social Icons