ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ১৭ সেপ্টেম্বর ৭৬ বছরে পা দিয়েছেন। জন্মদিন উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন আয়োজনের পাশাপাশি তার জীবনযাপন, খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার রুটিন নিয়েও আগ্রহ দেখা দিয়েছে।
বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোদি দিনের শুরু করেন বেশ ভোরে। কিছু প্রতিবেদনে তার ঘুম থেকে ওঠার সময় ভোর ৪টার কাছাকাছি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সকালের রুটিনে ধ্যান, প্রাণায়াম, যোগব্যায়াম এবং দেশ-বিদেশের খবর পড়ার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায় বলে জানা যায়।
যোগব্যায়ামই শরীরচর্চার অন্যতম সঙ্গী
নরেন্দ্র মোদি বিভিন্ন বক্তব্যে যোগব্যায়ামের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তার জীবনযাপন নিয়ে প্রকাশিত তথ্যেও যোগব্যায়াম, শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন ও ধ্যানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তার ফিটনেস রুটিনকে তাই শুধু জিমকেন্দ্রিক শরীরচর্চা হিসেবে দেখা যায় না। শরীরের নড়াচড়া, শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন এবং মনোযোগের বিষয়গুলোও এতে গুরুত্ব পায়।
খাবারে সাদাসিধে নিরামিষ
মোদির খাদ্যাভ্যাস নিয়েও বিভিন্ন সময়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তিনি নিরামিষভোজী হিসেবে পরিচিত। তার খাবারের তালিকায় সাধারণ ঘরোয়া খাবারের পাশাপাশি শাকসবজি, ফলমূল ও বিভিন্ন ভারতীয় খাবারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মরিঙ্গা বা সজনে দিয়ে তৈরি খাবারও তার খাদ্যাভ্যাস নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসেছে। এর মধ্যে মরিঙ্গা পরোঠার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
উপবাসও রুটিনের অংশ
ধর্মীয় বিভিন্ন উপলক্ষে নরেন্দ্র মোদি উপবাস পালন করেন বলে তিনি নিজেই বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন। এসব সময়ে তার খাবারের পরিমাণ ও ধরন সীমিত থাকে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তার খাদ্যাভ্যাস নিয়ে প্রকাশিত তথ্যগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট ‘সুপারফুড’-এর চেয়ে পরিমিত খাবার এবং নিয়ম মেনে চলার বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
ব্যস্ততার মধ্যেও রুটিন
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বের কারণে মোদির কর্মসূচি অত্যন্ত ব্যস্ত। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিদেশ সফরের মধ্যেও দৈনন্দিন অভ্যাস ধরে রাখার বিষয়টি তার জীবনযাপন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তার ঘুমের সময় নিয়েও বিভিন্ন দাবি রয়েছে। কোথাও কোথাও রাতে মাত্র সাড়ে তিন ঘণ্টা ঘুমানোর কথা বলা হয়েছে। তবে কম ঘুমকে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হিসেবে দেখা উচিত নয়। সাধারণভাবে পর্যাপ্ত ঘুম শরীর ও মনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণ মানুষের জন্য তার জীবনযাপন থেকে অনুসরণযোগ্য বিষয় হিসেবে নিয়মিত শরীরচর্চা, পুষ্টিকর খাবার, মানসিক প্রশান্তি এবং দৈনন্দিন জীবনে শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়গুলো সামনে আসে।
পোশাকেও আলাদা পরিচিতি
নরেন্দ্র মোদির পোশাকেও রয়েছে আলাদা পরিচিতি। হাফহাতা কুর্তার সঙ্গে ফিটিং জ্যাকেট তার পরিচিত পোশাকের অন্যতম ধরন। এই ধরনের জ্যাকেট ‘মোদি জ্যাকেট’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান ও বিশেষ আয়োজনে রঙিন পাগড়ি এবং ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী পোশাকেও তাকে দেখা যায়।
৭৬ বছরেও একই ছন্দ
৭৬ বছর বয়সে মোদির জীবনযাপন নিয়ে প্রকাশিত তথ্যগুলোতে ভোরের যোগব্যায়াম, সাদাসিধে নিরামিষ খাবার এবং নিয়ম মেনে চলার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে তার ব্যক্তিগত রুটিন সম্পর্কিত কিছু তথ্য বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে ঘুমের সময়সংক্রান্ত দাবিগুলোকে নিশ্চিত স্বাস্থ্যকর রুটিন হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
তথ্যসূত্র: নিউজ ১৮, হিন্দুস্তান টাইমস









