নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার প্রত্যাশা আবারও প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান ও ইউক্রেনের সংঘাত ঘিরে নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, তার মতো ব্যক্তিদের সাধারণত এই পুরস্কার দেওয়া হয় না।
বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা জানান ট্রাম্প। আগামী শুক্রবার নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির এ বছরের পুরস্কার ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
পুরস্কার নিয়ে সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, তিনি জানেন না কমিটি কী সিদ্ধান্ত নেবে। তবে তার দাবি, তার মতো মানুষদের নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ার একটি বদনাম রয়েছে কমিটির।
হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প বিভিন্ন সময় দাবি করে আসছেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার তার প্রাপ্য। এবারও তিনি বলেন, ‘এখনই সময় এটি পাওয়ার।’
ট্রাম্প তার বক্তব্যে গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদোর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি জানান, মাচাদো তাকে সম্মান জানিয়েছেন এবং ইতিহাসে তার চেয়ে বেশি কেউ নোবেল পাওয়ার যোগ্য নন বলে মন্তব্য করেছিলেন।
গত জানুয়ারিতে মাচাদো তার ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক ট্রাম্পের হাতে তুলে দেন। ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়ার আশার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে।
ট্রাম্পের দাবি, গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর তিনি আটটি সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং এসব ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন। এ কারণেই নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার যোগ্যতা তার রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দিয়েছে পাকিস্তান। দখলদার ইসরাইল ও কম্বোডিয়ার নেতারাও তার নাম প্রস্তাব করেছেন বলে ট্রাম্প জানিয়েছেন।
তবে যেসব সংঘাত সমাধানে নিজের ভূমিকার কথা ট্রাম্প তুলে ধরেছেন, সেসব অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তার কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। কিছু এলাকায় সংঘাত আবারও বেড়েছে। এর মধ্যে গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড সীমান্তের পরিস্থিতিও রয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই তিনি যুদ্ধটি শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি।
অন্যদিকে, ইরানে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রভাবও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পড়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কারের আলোচনায় পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের জন্য নিয়োজিত বিশেষ র্যাপোর্টিয়ারদের নামও রয়েছে।









