বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা নানা পাটেকার মৃত্যুর প্রায় তিন ঘণ্টা আগে এক বন্ধুকে অসুস্থ বোধ করার কথা জানিয়েছিলেন। রাত আড়াইটার দিকে পাঠানো সেই বার্তার পর ভোরেই হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান ৭৫ বছর বয়সী এই অভিনেতা।
নানা পাটেকারের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে মালহার পাটেকার। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে তিনি জানান, তিনি তখন পুনেতে ছিলেন এবং বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে গোয়ার উদ্দেশে রওনা হন। নানা পাটেকারের শেষকৃত্য পুনেতে অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।
মহারাষ্ট্রের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আশিস শেলার জানিয়েছেন, নানা পাটেকারকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় দেওয়া হবে। মারাঠি থিয়েটার এবং মারাঠি ও হিন্দি সিনেমায় তার দীর্ঘ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে মহারাষ্ট্র সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মৃত্যুর আগে বন্ধুকে বার্তা
মৃত্যুর সময় নানা পাটেকার গোয়ায় নিজের বাড়িতে ছিলেন। মণিপাল হাসপাতাল, গোয়ার অনকোলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক ডা. শেখর সালকার জানান, রাত আড়াইটার দিকে অসুস্থ বোধ করার কথা জানিয়ে অভিনেতা এক বন্ধুকে বার্তা পাঠান।
তবে তখন গভীর রাত হওয়ায় তার বন্ধু সঙ্গে সঙ্গে বার্তাটি দেখতে পারেননি।
চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোর প্রায় ৪টার দিকে ওই বন্ধু নানা পাটেকারের বাড়িতে পৌঁছান। সেখানে তিনি অভিনেতাকে অতিরিক্ত ঘামতে এবং শ্বাস নিতে কষ্ট করতে দেখেন।
পরে নানা পাটেকারের কেয়ারটেকার অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে সেখানে পৌঁছান। হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসক দলও দ্রুত বাড়িতে যায়।
চিকিৎসকরা দেখতে পান, নানা পাটেকার তখন কোনো সাড়া দিচ্ছিলেন না। ঘটনাস্থলেই তার সিপিআর শুরু করা হয়। পরে সিপিআর চালু রেখেই তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ডা. সালকার জানান, নানা পাটেকারকে ভোর প্রায় ৪টা ২০ মিনিটে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। তবে তার অবস্থা তখন অত্যন্ত সংকটজনক ছিল।
শেষ পর্যন্ত ভোর ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
চিকিৎসক জানান, নানা পাটেকারের আগে হৃদ্রোগের কোনো ইতিহাস ছিল কি না, সে বিষয়ে হাসপাতালের কাছে নিশ্চিত তথ্য ছিল না। তার হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গেলেও এর সুনির্দিষ্ট কারণ তখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হওয়ায় ঘটনাটি মেডিকো-লিগ্যাল কেস (এমএলসি) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নানা পাটেকারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোয়া মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন ডা. সালকার।
তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস









