বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা নানা পাটেকরের জীবনে অভিনয়ের পাশাপাশি ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এক অধ্যায়। কার্গিল যুদ্ধের সময় প্রায় ৬০ দিন সেনাদের সঙ্গে কাটিয়েছিলেন নানা পাটেকর। অভিনয়ের জগতের ব্যস্ততা ছেড়ে তিনি তখন সীমান্তে সেনাদের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
৭৫ বছর বয়সে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে ভারতের গোয়ায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। তার মৃত্যুর পর আবারও সামনে এসেছে জীবনের নানা অজানা অধ্যায়।
নানা পাটেকর শুধু অভিনয়ের জন্যই পরিচিত ছিলেন না। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা এবং সরল জীবনযাপনের কারণেও তিনি আলাদা পরিচিতি পেয়েছিলেন।
সেনার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য দীর্ঘ প্রশিক্ষণ
১৯৯১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ সিনেমায় সেনা কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করেন নানা পাটেকর। চরিত্রটি বাস্তবভাবে ফুটিয়ে তুলতে তিনি প্রায় তিন বছর সামরিক প্রশিক্ষণ নেন।
মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির সঙ্গে এই প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন তিনি। সেনাবাহিনীর কঠোর জীবনযাত্রার সঙ্গে তখনই তার ঘনিষ্ঠ পরিচয় তৈরি হয়।
এই অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেয়।
কার্গিল যুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত
১৯৯৯ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কার্গিল যুদ্ধ শুরু হয়। সে সময় নানা পাটেকরের অভিনয় ক্যারিয়ারও বেশ সফল অবস্থায় ছিল।
তবে সীমান্তে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর শুধু সিনেমায় সেনার চরিত্রে অভিনয় করেই সন্তুষ্ট থাকেননি তিনি। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে গিয়ে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তাকে জানানো হয়, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর রয়েছে। এরপর তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জর্জ ফার্নান্ডেজের কাছে আবেদন করেন নানা পাটেকর।
তিনি জানান, তার অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ রয়েছে। এ বিষয়ে তিনি একটি পদকও পেয়েছেন বলে জানান অভিনেতা।
শেষ পর্যন্ত অনুমতি পাওয়ার পর তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর কুইক রিঅ্যাকশন টিমের সঙ্গে যুক্ত হন।
৬০ দিন সেনাদের সঙ্গে
কার্গিল যুদ্ধের সময় প্রায় দুই মাস সেনাদের সঙ্গে ছিলেন নানা পাটেকর। শ্রীনগর, দ্রাস ও লেহসহ বিভিন্ন এলাকায় সেনাদের জীবন কাছ থেকে দেখেন তিনি।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, প্রচণ্ড ঠান্ডা এবং উচ্চতার কঠিন পরিবেশে সেনাদের প্রতিদিনের জীবন তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
পরে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের অভিজ্ঞতার কথাও বলেছেন তিনি। নানা জানিয়েছিলেন, সেনাদের সঙ্গে থাকার সময় তার ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। যাওয়ার সময় তার ওজন ছিল প্রায় ৭৬ কেজি। ফিরে আসার সময় তা নেমে আসে প্রায় ৫৬ কেজিতে।
শুধু পর্দার নায়ক ছিলেন না
নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর তার অভিনয়জীবনের পাশাপাশি মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতার কথাও স্মরণ করছেন অনেকে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। নানা পাটেকরের স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলী ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তার মতো তীব্রতা ও আলাদা উপস্থিতি খুব কম অভিনেতার মধ্যেই দেখা যায়।
মোদির ভাষ্য অনুযায়ী, নানা পাটেকর প্রতিটি চরিত্রে ভিন্নতা ও সৃজনশীলতা নিয়ে আসতেন। তার অভিনীত চরিত্রগুলো দীর্ঘদিন দর্শকদের মনে থাকবে।
অভিনয়ের পাশাপাশি স্পষ্টবাদী ব্যক্তিত্ব, দেশপ্রেম এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতার কারণেও নানা পাটেকরের জীবন বলিউডের গণ্ডির বাইরে আলাদা একটি গল্প হয়ে থাকবে।









