পাকস্থলীর ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই বিকশিত হতে পারে। ফলে বদহজম, বুকজ্বালা কিংবা পেট ফাঁপার মতো সমস্যাকে অনেকে সাধারণ হজমজনিত অসুবিধা মনে করে এড়িয়ে যান। তবে কিছু উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে বা ক্রমশ বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
পাকস্থলীর ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত সম্ভাব্য আটটি লক্ষণের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী বদহজম, বুকজ্বালা, বমি বমি ভাব, ক্ষুধামন্দা, অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়া, খাওয়ার পর পেট ফাঁপা, পেটের ওপরের অংশে অস্বস্তি এবং অকারণে ওজন কমে যাওয়া।
পাকস্থলীর ক্যানসারের ৮টি সম্ভাব্য লক্ষণ
১. দীর্ঘস্থায়ী বদহজম
বারবার বদহজম হওয়া বা দীর্ঘদিন ধরে হজমের সমস্যা চলতে থাকা একটি সতর্কসংকেত হতে পারে। সাধারণ ব্যবস্থা নেওয়ার পরও সমস্যা না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
২. ওষুধেও না কমা বুকজ্বালা
ঘন ঘন বুকজ্বালা হওয়া কিংবা প্রচলিত ওষুধ ব্যবহারের পরও সমস্যা অব্যাহত থাকলে এর কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে বুকজ্বালা হলেই পাকস্থলীর ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়।
৩. দীর্ঘস্থায়ী বমি বমি ভাব
স্পষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই দীর্ঘদিন বমি বমি ভাব অনুভব করা বা বারবার এমন সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
৪. ক্ষুধামন্দা
খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া কিংবা স্বাভাবিকের তুলনায় কম খেতে ইচ্ছা করা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। দীর্ঘদিন এ অবস্থা চললে অবহেলা করা উচিত নয়।
৫. অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়া
অল্প পরিমাণ খাবার খাওয়ার পরই পেট ভরে গেছে বলে মনে হওয়া পাকস্থলীর ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সম্ভাব্য উপসর্গ। বিশেষ করে এটি নিয়মিত হলে বা খাওয়ার পরিমাণ কমে গিয়ে ওজন কমতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।
৬. খাওয়ার পর পেট ফাঁপা
খাবার খাওয়ার পর ঘন ঘন পেট ফেঁপে যাওয়া বা পেটে অস্বস্তি অনুভব করার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা জরুরি।
৭. পেটের ওপরের অংশে অস্বস্তি
পেটের ওপরের দিকে দীর্ঘস্থায়ী বা অকারণ অস্বস্তি, চাপ কিংবা ব্যথা অনুভূত হলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। বিশেষ করে অন্য উপসর্গের সঙ্গে এটি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
৮. অকারণে ওজন কমে যাওয়া
খাদ্যাভ্যাস বা শারীরিক পরিশ্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না থাকা সত্ত্বেও ওজন কমে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। পাকস্থলীর ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে অকারণে ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
রোগ বাড়লে যেসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে
পাকস্থলীর ক্যানসার অগ্রসর হলে আরও গুরুতর কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তস্বল্পতার কারণে অস্বাভাবিক ক্লান্তি এবং খাবার গিলতে অসুবিধা।
কিছু ক্ষেত্রে বমির সঙ্গে রক্ত বের হতে পারে। রোগ শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে পেটে তরল জমা কিংবা ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
বদহজম, বুকজ্বালা বা পেট ফাঁপার মতো উপসর্গের পেছনে ক্যানসার ছাড়াও অনেক সাধারণ কারণ থাকতে পারে। তাই শুধু এসব লক্ষণ দেখে নিজে নিজে ক্যানসার হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
তবে উপসর্গ কয়েক সপ্তাহ ধরে স্থায়ী হলে, ক্রমশ বাড়তে থাকলে কিংবা দৈনন্দিন জীবনে ব্যাঘাত ঘটালে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অকারণে ওজন কমে যাওয়া, বারবার অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়া এবং খাবার গিলতে অসুবিধার মতো লক্ষণও অবহেলা করা উচিত নয়।
বমির সঙ্গে রক্ত বের হলে বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে উপসর্গের প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করবেন।
মনে রাখতে হবে, পাকস্থলীর ক্যানসার শনাক্ত করতে শুধু উপসর্গের ওপর নির্ভর করা যায় না। সঠিক সময়ে চিকিৎসকের মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা রোগ নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সূত্র: সামা টিভি ও যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন।








