নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত অর্থ বা জরিমানা আদায় করা শরিয়তসম্মত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অনেকের। এ বিষয়ে একটি ফতোয়ায় বলা হয়েছে, বিলম্বের কারণে আদায় করা অতিরিক্ত অর্থ বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিজেদের আয় হিসেবে গ্রহণ করলে তা সুদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
ঢাকার বিমানবন্দর এলাকার জামিয়া বাবুস সালামের মুফতি ও মুহাদ্দিস জাওয়াদ তাহের এক প্রশ্নের উত্তরে এ ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
বিদ্যুৎ বিলের জরিমানা কেন সুদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে?
ফতোয়ায় বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর গ্রাহকের ওপর যে বিল পরিশোধের দায় তৈরি হয়, তা শরিয়তের দৃষ্টিতে ঋণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ দায় পরিশোধে বিলম্বের কারণে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হলে তা সুদের পর্যায়ে পড়তে পারে।
এ প্রসঙ্গে ইসলামি ফিকহের একটি মূলনীতি উল্লেখ করা হয়েছে। ঋণের বিপরীতে শর্তযুক্ত অতিরিক্ত অর্থ বা সুবিধা গ্রহণ সুদের অন্তর্ভুক্ত বলে বিবেচিত হয়।
ফতোয়ায় আরও ব্যাখ্যা করা হয়েছে, প্রাচীন আরব সমাজে ঋণ পরিশোধের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে ঋণদাতা অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ঋণ পরিশোধের সময় বাড়িয়ে দিত। ইসলামি শরিয়তে এ ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ।
সামর্থ্য থাকলে সময়মতো বিল পরিশোধ জরুরি
ফতোয়ায় মুসলিম গ্রাহকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে বিল পরিশোধে দেরি করাকে অনুচিত ও গুনাহের কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি হাদিস উদ্ধৃত করা হয়েছে। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, সামর্থ্যবান ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা জুলুম।
অর্থাৎ, বিলম্বজনিত জরিমানার বিধান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও নিজের আর্থিক দায় যথাসময়ে পরিশোধ করার দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
বাধ্য হয়ে জরিমানা দিতে হলে কী হবে?
ফতোয়ায় বলা হয়েছে, অনিচ্ছাকৃত পরিস্থিতি বা আর্থিক অসামর্থ্যের কারণে নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ করা সম্ভব না হলে বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে জরিমানা এড়ানোর কোনো সুযোগ না থাকলে গ্রাহককে বাধ্য হয়ে তা পরিশোধ করতে হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
ফতোয়ায় আরও বলা হয়েছে, শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া অন্যের সম্পদ গ্রহণ করা বৈধ নয়। এ বিষয়ে ইসলামি ফিকহের বিভিন্ন গ্রন্থের উদ্ধৃতিও উল্লেখ করা হয়েছে।
জরিমানার ক্ষেত্রে কী মনে রাখা উচিত?
ফতোয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, ঋণের বিপরীতে বিলম্বের কারণে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে তা নিজেদের আয় হিসেবে রাখা সুদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। একই সঙ্গে গ্রাহকেরও নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধের দায়িত্ব রয়েছে।
তবে বাস্তবে কোনো নির্দিষ্ট বিদ্যুৎ বিলের অতিরিক্ত চার্জের শরিয়তসম্মত বিধান নির্ধারণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট চার্জের ধরন, চুক্তির শর্ত এবং প্রযোজ্য পরিস্থিতি বিবেচনা করা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত বা নির্দিষ্ট কোনো ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যোগ্য মুফতির পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।








