GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / আন্তর্জাতিক / মাস্কের মন্তব্যে চাপে আম্বানির জিও, ভারতে স্টারলিংক নিয়ে বিতর্ক

মাস্কের মন্তব্যে চাপে আম্বানির জিও, ভারতে স্টারলিংক নিয়ে বিতর্ক

ভারতের ইন্টারনেট বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। ভারতে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের দাম সাশ্রয়ী রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স জিও। দীর্ঘদিন ধরে ভারতের টেলিকম বাজারে শক্তিশালী অবস্থানে থাকা জিওর জন্য স্টারলিংক ভবিষ্যতে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ইন্টারনেট বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্টারলিংকের অবস্থান এবং প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিয়ে মাস্ক সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একাধিক মন্তব্য করেছেন। একই সময়ে রিলায়েন্সের মূল প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য বড় প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও নিয়েও আলোচনা চলছে।

স্টারলিংকের দাম কম রাখার বার্তা মাস্কের

শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক বলেন, ভারতে স্টারলিংকের সেবা বেশি ব্যয়বহুল হলে গ্রাহকেরা তা গ্রহণ করবেন না। তাই স্পেসএক্সের এই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবার দাম সাশ্রয়ী রাখতে হবে।

মাস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়লে সাধারণ গ্রাহকেরা উপকৃত হন। তাঁদের সামনে সেবার বিকল্পও বাড়ে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, প্রতিযোগিতার কারণে আম্বানির ব্যবসায় মুনাফার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে, তবে এতে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই।

তবে ভারতে স্টারলিংকের সেবার জন্য নির্দিষ্ট কোনো মূল্য ঘোষণা করেননি মাস্ক। ফলে দেশটিতে সেবাটি চালু হলে গ্রাহকদের কত টাকা খরচ করতে হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

কম দামের ইন্টারনেটে জিওর সাফল্য

ভারতের টেলিকম বাজারে রিলায়েন্স জিওর উত্থানের অন্যতম কারণ ছিল তুলনামূলক কম দামে ডেটা সেবা দেওয়া। সাশ্রয়ী ইন্টারনেট প্যাকেজের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বিপুলসংখ্যক গ্রাহক আকৃষ্ট করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতে প্রতি গিগাবাইট মোবাইল ডেটার দাম প্রায় ৭ দশমিক ৭৪ রুপি। আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় এই দাম বেশ কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমন বাজারে স্টারলিংক প্রতিযোগিতামূলক দামে সেবা দিতে পারলে গ্রাহকদের সামনে নতুন বিকল্প তৈরি হতে পারে। তবে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট এবং জিওর প্রচলিত মোবাইল ডেটা সেবার প্রযুক্তি ও ব্যবহারের ধরন এক নয়। তাই দুই প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতা কতটা সরাসরি হবে, তা নির্ভর করবে সেবার মূল্য, প্রাপ্যতা এবং গ্রাহকদের চাহিদার ওপর।

স্টারলিংকের প্রবেশে বাধার অভিযোগ মাস্কের

ভারতে স্টারলিংকের বাজারে প্রবেশের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মাস্ক। তাঁর অভিযোগ, দেশটির বড় ইন্টারনেট বাজারে স্টারলিংকের প্রবেশে বাধা তৈরি করা হচ্ছে, যাতে রিলায়েন্স জিও সুবিধা পায়।

শুক্রবার গভীর রাতে আম্বানিকে উদ্দেশ করে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘প্রধানমন্ত্রী আম্বানি’ বলে মন্তব্য করেন মাস্ক। একই সঙ্গে ভারতে স্টারলিংককে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়া হবে কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

মাস্কের এমন মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, এর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য সম্পর্ককে বেশ ইতিবাচক হিসেবে দেখা হতো।

তবে মাস্কের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয় ভারত সরকার। সরকারের বক্তব্য, স্টারলিংকের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কোনো পক্ষপাত করা হচ্ছে না।

অনুমোদনের অপেক্ষায় স্যাটেলাইট প্রকল্প

ভারত সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, স্টারলিংক ও জিওসহ তিনটি স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রকল্প চূড়ান্ত নিরাপত্তা ছাড়পত্রের অপেক্ষায় রয়েছে। অর্থাৎ, সেবাগুলোর কার্যক্রম শুরু বা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

স্টারলিংক স্পেসএক্সের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা। প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকা এলাকাতেও ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এ প্রযুক্তিতে। অন্যদিকে রিলায়েন্স জিও ভারতের বড় টেলিকম সেবাদাতাদের একটি।

ভারতে স্টারলিংকের সেবা চালু হলে বাজারে প্রতিযোগিতার ধরন বদলাতে পারে। তবে গ্রাহকদের ওপর এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে সেবার মূল্য, সরকারি অনুমোদন, নেটওয়ার্কের বিস্তার এবং ব্যবহারকারীদের জন্য বাস্তব সুবিধার ওপর।

জিওর জন্য কতটা বড় চ্যালেঞ্জ স্টারলিংক?

মাস্কের মন্তব্যের পর ভারতের ইন্টারনেট বাজারে জিও ও স্টারলিংককে ঘিরে আলোচনা বেড়েছে। স্টারলিংক সাশ্রয়ী দামে সেবা দিতে পারলে নির্দিষ্ট কিছু গ্রাহকগোষ্ঠীর কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে প্রচলিত ব্রডব্যান্ড বা মোবাইল নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা রয়েছে, এমন এলাকায় স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বিকল্প হতে পারে।

তবে এখনই স্টারলিংকের কারণে জিওর ব্যবসা বড় সংকটে পড়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য নেই। মাস্কের বক্তব্য মূলত সম্ভাব্য মূল্যনীতি ও বাজার প্রতিযোগিতা নিয়ে। ভারতে স্টারলিংকের নির্দিষ্ট মূল্য এবং সেবা চালুর চূড়ান্ত অবস্থা স্পষ্ট হওয়ার পরই দুই প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতার প্রকৃত চিত্র বোঝা যাবে।

Social Icons