GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / পলকের নির্দেশে জুলাইয়ে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়

পলকের নির্দেশে জুলাইয়ে সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়

২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট সেবা বন্ধের নির্দেশ তৎকালীন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক দিয়েছিলেন বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) এক কর্মকর্তা।

রোববার (১২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দিতে এ তথ্য জানান বিটিআরসির উপপরিচালক মাহদী আহমদ। গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি কমিশনের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশনস বিভাগে উপপরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন মাহদী আহমদ।

১৪ জুলাই রাতে প্রথম নির্দেশনার কথা জানান সাক্ষী

মাহদী আহমদ জবানবন্দিতে বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার পর বিটিআরসির তৎকালীন মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজার রহমান তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করেন।

সাক্ষীর ভাষ্য অনুযায়ী, তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

এরপর বিটিআরসির মহাপরিচালক মোবাইল অপারেটরদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেন এবং হোয়াটসঅ্যাপ কলের মাধ্যমে মাহদী আহমদকে বিষয়টি জানান।

১৬ জুলাই সব পাবলিক ও চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নেটওয়ার্ক বন্ধ

মাহদী আহমদ জানান, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং চারটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট সেবা বন্ধের একই ধরনের নির্দেশনা আসে।

তাঁর জবানবন্দি অনুযায়ী, তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী পলক বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেন। চেয়ারম্যান তা মহাপরিচালককে জানান এবং মহাপরিচালক সরাসরি মোবাইল অপারেটরদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মোবাইল ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়।

সাক্ষী বলেন, সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি এ নির্দেশনার কথা জানতে পারেন। তখন দাপ্তরিক কাজে তিনি অফিসে ছিলেন।

সভায় নেটওয়ার্ক বন্ধের বিষয়ে ভূতাপেক্ষ অনুমোদন

জবানবন্দিতে মাহদী আহমদ ১৬ জুলাই অনুষ্ঠিত একটি পূর্বনির্ধারিত উচ্চপর্যায়ের সভার কথাও উল্লেখ করেন। সভায় তৎকালীন আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ও প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক অনলাইনে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

সাক্ষীর ভাষ্য অনুযায়ী, সভায় তাঁর একটি এজেন্ডা থাকায় তিনি অফিসে উপস্থিত ছিলেন, তবে সভায় অংশ নেননি। তাঁর তৈরি করা নথিগুলো মহাপরিচালকের কাছে সরবরাহ করেছিলেন। ওই সভায় নেটওয়ার্ক বন্ধের বিষয়ে ভূতাপেক্ষ অনুমোদন নেওয়া হয় বলেও জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।

২৮ জুলাইয়ের সভায় নেটওয়ার্ক চালুর নির্দেশ

মাহদী আহমদ জানান, ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি কার্যালয়ে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় ডিজিএফআই, এনএসআই, এনটিএমসি, এমএফএস সংস্থা এবং মোবাইল অপারেটরগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন তিনি।

সাক্ষীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সভায় পলক এনটিএমসির তৎকালীন মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানকে চারটি মোবাইল অপারেটরের থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্ক চালু করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিটিআরসিকে ফেসবুক, টিকটক, আকামাই ও বাইসানের ক্যাশ সার্ভার বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

৩১ জুলাই ক্যাশ সার্ভার চালুর নির্দেশ

জবানবন্দিতে মাহদী আহমদ আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই বিটিআরসির চেয়ারম্যানকে ফেসবুক, টিকটক, আকামাই ও বাইসানের ক্যাশ সার্ভার চালু করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

ট্রাইব্যুনালে দেওয়া এই সাক্ষ্য জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সেবা সীমিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেছে। মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হবে।

Social Icons