পারফিউম বা সুগন্ধি ব্যবহার করা হালাল নাকি হারাম, তা নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে অ্যালকোহলযুক্ত পারফিউম ব্যবহার করে নামাজ আদায় করা যাবে কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে সংশয় রয়েছে।
এ বিষয়ে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এবং ইসলামী চিন্তাবিদ শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেছেন, অ্যালকোহলযুক্ত পারফিউম ব্যবহারকে হারাম বা নাজায়েজ বলার পক্ষে তিনি যথেষ্ট যুক্তি দেখেন না। তবে এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
অ্যালকোহলযুক্ত পারফিউম নিয়ে আলেমদের মতভেদ
শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, কিছু আলেম অ্যালকোহলযুক্ত পারফিউম ব্যবহার নিষেধ করেন, আবার অনেকে তা ব্যবহারের অনুমতি দেন। তাঁর কাছে অনুমোদন দেওয়ার পক্ষের যুক্তি অধিকতর গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়।
তিনি বলেন, পারফিউমে ব্যবহৃত অ্যালকোহল এবং পানীয় হিসেবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পারফিউমে ব্যবহৃত অ্যালকোহল একধরনের রাসায়নিক উপাদান, যা পানীয় অ্যালকোহল বা মাদকের সঙ্গে এক নয়।
কেন পারফিউম ব্যবহারকে নাজায়েজ মনে করেন না?
শায়খ আহমাদুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে কয়েকটি যুক্তি তুলে ধরেছেন। প্রথমত, পারফিউমে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে তিনি মাদকজাত অ্যালকোহল থেকে আলাদা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
দ্বিতীয়ত, পারফিউমের অ্যালকোহল হারাম উপাদান থেকে তৈরি, এমন সিদ্ধান্তের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ দেখেন না বলে জানিয়েছেন তিনি। তৃতীয়ত, তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পারফিউম স্প্রে করার পর এর উপাদান বাষ্প হয়ে উড়ে যায়।
এসব যুক্তির ভিত্তিতে অ্যালকোহলযুক্ত পারফিউম ব্যবহারকে হারাম বা নাজায়েজ মনে করেন না বলে জানিয়েছেন এই ইসলামী চিন্তাবিদ।
নামাজের আগে কী পরামর্শ দিয়েছেন?
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, যেসব আলেম অ্যালকোহলযুক্ত পারফিউম ব্যবহার নিষেধ করেন, তাঁদের মত অনুসরণ করতে চাইলে সতর্কতামূলকভাবে নামাজের ঠিক আগে এ ধরনের পারফিউম ব্যবহার না করাই ভালো।
তিনি আরও বলেন, আতর ব্যবহার করলে এ বিষয়ে মতপার্থক্য থাকে না।
তবে অ্যালকোহলযুক্ত পারফিউমের বিধান নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তাই ব্যক্তিগত ধর্মীয় আমলের ক্ষেত্রে নিজের অনুসৃত নির্ভরযোগ্য আলেমের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।








