ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার পরিবর্তনের দাবিতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ নেতা শশী থারুর। ‘এই সরকারের পতন হবে’ স্লোগান দিয়ে সোমবার (১২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করেছেন তিরুবনন্তপুরমের এই সংসদ সদস্য।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) কার্যক্রম ঘিরে বিরোধী দলগুলোর বিক্ষোভ জোরালো হওয়ার মধ্যেই থারুরের এই বক্তব্য সামনে এসেছে।
রাহুলের পোস্ট শেয়ার করে থারুরের বার্তা
রাহুল গান্ধীর একটি পোস্ট পুনরায় শেয়ার করে একই স্লোগান দেন শশী থারুর। গত ১০ অক্টোবর রাহুলও ‘এই সরকারের পতন হবে’ স্লোগানটি ব্যবহার করেছিলেন। থারুর তাঁর পোস্টের ক্যাপশনেও একই কথা লেখেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের চলমান রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সংযুক্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে সরকারের পতন নিয়ে থারুরের বক্তব্য রাজনৈতিক স্লোগান ও বিরোধী দলের অবস্থান হিসেবেই এসেছে।
এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের ক্ষোভ
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে পরিচালিত এসআইআর কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা জোরদার করেছে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী নেতারা।
রাহুল গান্ধী জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন। এদিকে, তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামের সংগঠনটিও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে সরানোর দাবি জানিয়েছে।
যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা
গত ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপির প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে বিক্ষোভের কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ সময় সংগঠনটির কয়েকজন শীর্ষ নেতার পাশাপাশি অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও পিনারাই বিজয়নসহ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকে আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রম, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনার মধ্যেই রাহুল গান্ধীর পর শশী থারুরের একই স্লোগান রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।









