GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / জাতীয় / ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী

ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে নিজের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারপ্রধান হিসেবে প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য অধিকার ও প্রাপ্য নিশ্চিত করতে নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনের আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে পূজার আমন্ত্রণ জানান।

নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করাই দায়িত্ব

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে সরকার যেসব কাজ করেছে, তা হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারাও উল্লেখ করেছেন। আরও কিছু বিষয়ে সরকার কাজ করার চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ সরকারের সদিচ্ছার পরিচয় বহন করে।

নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের পরিবর্তে মানুষ ও নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য নিশ্চিত করাই তাঁর দায়িত্ব। নিজের ক্ষমতার মধ্যে থেকে প্রত্যেককে যতটা সম্ভব নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষের অবদান

দেশের মুক্তিযুদ্ধ ও বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাঁর বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যখন ধর্মীয় পরিচয়কে আলাদা করে দেখা হয়নি, তখন নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও ধর্মকে বিবেচনায় আনার সুযোগ নেই।

নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী

বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতাকর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার প্রসঙ্গও তোলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সে সময় তাঁর মুসলমান কর্মীদের পাশাপাশি হিন্দু কর্মীরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়ের কোনো পার্থক্য ছিল না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, আল্লাহ তাঁকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে তাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা হিন্দু নেতাদের

মতবিনিময় সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁদের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। দুর্গাপূজার ছুটি ও অনুদান বাড়ানোর জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

নেতারা আরও জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন এবং তাঁদের কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না বলে তাঁরা উল্লেখ করেন। বিএনপিকে ভোট দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ভুল করেননি বলেও তাঁরা মন্তব্য করেন। সরকারের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান তাঁরা।

মতবিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন যারা

সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচএস পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস ও রাজিব কুমার আচার্য।

এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

Social Icons