কুমিল্লার স্কুলছাত্রী জান্নাতুন তাজমীন হত্যা মামলায় গ্রেফতার সুমন মিয়াকে নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, সুমন দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন করতেন। এ কারণে পারিবারিক জীবনেও নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ জানায়, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। তিনি পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করতেন তিনি।
স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ আরও জানায়, মাদক সেবনের জন্য সুমন শ্বশুরবাড়ির দামি আসবাবপত্র একে একে বিক্রি করে দেন। তার কর্মকাণ্ডে পরিবারের সদস্যরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তার স্ত্রী মামলা করেন এবং সন্তানকে নিয়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন। এরপর সুমন অটোরিকশা চালিয়ে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান করতেন।
যেভাবে ঘটে তাজমীন হত্যা
পুলিশের তদন্ত ও সুমনের স্বীকারোক্তির বরাতে জানা গেছে, গত বুধবার মধ্যরাতে কক্সবাজার থেকে ফিরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় নামেন তাজমীন। সেখান থেকে শহরের বাসায় যাওয়ার জন্য তিনি সুমনের অটোরিকশা ভাড়া করেন। ভাড়া ঠিক হয়েছিল ৩০০ টাকা।
অভিযোগ অনুযায়ী, সুমন শর্টকাট রাস্তা দেখানোর কথা বলে কিশোরীকে নির্জন স্থানে নিয়ে যান। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তাজমীন চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে সুমন তাকে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে তাজমীনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হলে তিনি বাধা দেন। এ সময় ধানখেতে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। পরে সুমন গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর মাটিতে ফেলে পা দিয়ে চেপে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, তাজমীনের ব্যাগ থেকে একটি আইফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান সুমন। পরে ফোনটি একটি জঙ্গলে ফেলে তিনি চট্টগ্রামে পালিয়ে যান।
চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার, উদ্ধার আইফোন
বৃহস্পতিবার পুলিশ তাজমীনের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
গোয়েন্দা ও থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাগমারার একটি জঙ্গল থেকে তাজমীনের আইফোন উদ্ধার করা হয়।
শনিবার রাতে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হকের আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন সুমন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, সুমন গাঁজা ও ইয়াবা সেবন করতেন। তার বিরুদ্ধে উঠে আসা বিভিন্ন অভিযোগ ও কর্মকাণ্ডের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
কথিত প্রেমিক রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদ
এদিকে, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে কথিত প্রেমিক রাজু চৌধুরীকেও গ্রেফতার করে কুমিল্লায় আনা হয়েছে। কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ জানান, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তাজমীন হত্যা মামলায় ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
তথ্যসূত্র: দৈনিক যুগান্তর









