GULF BANGLA বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করুন +880 1755727432
Home / রাজনীতি / কানাডায় স্ট্যাটাসবিহীন ভাসমান ব্যক্তি আমি: এস কে সিনহা

কানাডায় স্ট্যাটাসবিহীন ভাসমান ব্যক্তি আমি: এস কে সিনহা

কানাডায় শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, যিনি এস কে সিনহা নামে পরিচিত। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনার সরকারের আমলে একটি সাজানো মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কারণে কানাডায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে জটিলতার মুখে পড়েছেন তিনি। নিজের বর্তমান অবস্থাকে ‘স্ট্যাটাসবিহীন একেবারে ভাসমান’ ব্যক্তি হিসেবেও বর্ণনা করেছেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি।

বর্তমানে কানাডার টরন্টোতে ছোট মেয়ের সঙ্গে থাকছেন এস কে সিনহা।

কানাডায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি নিয়ে জটিলতার দাবি

এস কে সিনহা বলেন, তিনি বর্তমানে শরণার্থী হিসেবে কানাডায় অবস্থান করছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার সরকারের সময় একটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর থেকে তাঁর অভিবাসনসংক্রান্ত পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে।

তিনি জানান, তাঁর স্ত্রীর কানাডায় স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা পারমানেন্ট রেসিডেন্সি (পিআর) হয়েছে। তাঁর নিজের পিআর অনুমোদিত হলেও পুলিশ প্রতিবেদন না পাওয়ায় কার্ড ইস্যু হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে বিরোধের দাবি

২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তিনি দেশের ইতিহাসে প্রথম অমুসলিম প্রধান বিচারপতি। তাঁর মেয়াদ ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত থাকলেও নির্ধারিত সময়ের ৮২ দিন আগে পদত্যাগ করেন তিনি।

২০১৭ সালের ২ অক্টোবর এক মাসের ছুটির কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেন এস কে সিনহা। তাঁর ছুটি ও শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে সে সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। ওই সময় বিএনপি অভিযোগ করেছিল, তাঁকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে।

এস কে সিনহার ভাষ্য অনুযায়ী, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে কেন্দ্র করে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে ফিরিয়ে নেওয়ার বিধান করা হয়েছিল।

২০১৭ সালের ৩ জুলাই তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল সর্বসম্মতভাবে খারিজ করে দেন। ফলে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে থাকার বিধান বহাল থাকে।

এস কে সিনহার দাবি, রায় ঘোষণার আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সরকারের পক্ষে মত দেওয়ার জন্য তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। তবে তিনি তাতে রাজি হননি বলে জানান তিনি।

২০১৭ সালে দেশ ছাড়েন এস কে সিনহা

২০১৭ সালের ১৩ অক্টোবর রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন এস কে সিনহা। দেশ ছাড়ার আগে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, তিনি অসুস্থ নন; বিচার বিভাগের স্বার্থে সাময়িকভাবে দেশ ছাড়ছেন।

এরপর অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে আবার কানাডায় ফিরে যান তিনি।

দেশে ফিরতে চান, পাসপোর্ট না পাওয়ার অভিযোগ

দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করে এস কে সিনহা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরপরই তিনি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। তবে দুই বছরের বেশি সময় পার হলেও পাসপোর্ট পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, কানাডার টরন্টোতে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল কার্যালয়ে পাসপোর্টের বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন। সর্বশেষ গত ৪ আগস্ট ই-মেইলে তাগাদা দিয়েও কোনো উত্তর পাননি বলে অভিযোগ করেন সাবেক এই প্রধান বিচারপতি।

পাসপোর্ট পাওয়া এবং কানাডায় নিজের অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থার জটিলতা কাটলে দেশে ফেরার বিষয়ে তাঁর আগ্রহের কথা জানিয়েছেন এস কে সিনহা।

তথ্যসূত্র: দৈনিক যুগান্তর

Social Icons